মহাকাশে অস্ত্র পাঠাল আমেরিকা! চিন ও রাশিয়ার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে কোন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি?

মহাকাশ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। এই প্রথমবার প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে নিল যে, তারা পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েন করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় ম্যাকের এই বিস্ফোরক ঘোষণার পরই বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আমেরিকার উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য শত্রু দেশের আক্রমণ থেকে দেশের মহাকাশভিত্তিক সামরিক শক্তি ও স্যাটেলাইটগুলোকে রক্ষা করতেই এই ‘কক্ষপথ-ভিত্তিক মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র’ অপরিহার্য ছিল। বর্তমান আধুনিক যুদ্ধে জিপিএস, যোগাযোগ, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের মতো অত্যন্ত জরুরি পরিষেবাগুলো সম্পূর্ণভাবে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, প্রয়োজন পড়লে এই প্রযুক্তি আক্রমণাত্মক বা প্রতিরক্ষামূলক—উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও কক্ষপথে ঠিক কী ধরণের বা কতগুলো অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বেড়ে চলেছে মহাকাশ যুদ্ধের আশঙ্কা
দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও চীন তাদের মহাকাশ সামরিক সক্ষমতা দ্রুত প্রসারিত করে চলেছে। বিশেষ করে চীন এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে যা অন্য দেশের স্যাটেলাইটকে প্রভাবিত বা অকেজো করতে সক্ষম। অন্যদিকে, রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে। এমতাবস্থায় আমেরিকার এই স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিল যে, মহাশূন্য এখন আর কেবল বিজ্ঞানচর্চা বা উপগ্রহ পাঠানোর জায়গা নয়, বরং মহাশূন্যেও শুরু হয়ে গিয়েছে এক ভয়াবহ সামরিক প্রতিযোগিতার লড়াই।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই তীব্র লড়াইয়ের জেরে মহাকাশ বর্জ্য বা ‘স্পেস ডেব্রিস’-এর ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইটগুলোর একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন সংকটের জন্ম দিচ্ছে।