রপ্তানি প্রেমিদের জন্য বিরাট সুখবর! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতে কি তবে ফিরছে ফর্মুলা ওয়ান রেস?

গতির রোমাঞ্চ ভালোবাসেন এমন কোটি কোটি স্পোর্টস প্রেমীর জন্য এল এক দুর্দান্ত খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতে আবারও ফর্মুলা ওয়ান (Formula 1) এবং মোটর স্পোর্টস ফিরিয়ে আনার জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নীতি আয়োগের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায় বিশিষ্ট টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
টিভি৯ ভারতর্ষের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ১০ সদস্যের এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুগল কিশোর জোশী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০২৮ সালেই ভারতে ফের ফর্মুলা ওয়ান রেসের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে। মাঠ পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই এখন থেকেই রূপরেখা তৈরি শুরু করে দিয়েছে গঠিত কমিটি।
কী এই টাস্ক ফোর্সের মূল কাজ?
ভারতবর্ষে মোটর স্পোর্টসের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই সমস্ত বাধা পেরিয়ে সফলভাবে ইভেন্ট আয়োজনের জন্য এই টাস্ক ফোর্স বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
মোটর স্পোর্টস ইকোসিস্টেমের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা।
-
অতীতে যে সমস্ত ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার স্থায়ী সমাধান খোঁজা।
-
একটি সুনির্দিষ্ট নীতিগত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করা।
-
২০২৮ সালে ভারতে গ্র্যান্ড প্রি (Grand Prix) আয়োজনের বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
এই কমিটিতে খেলাধুলা, বাণিজ্য এবং পর্যটন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
কেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভারতের ফর্মুলা ওয়ান?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এর আগে ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর গ্রেটার নয়ডার বিখ্যাত বুদ্ধ ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটে শেষবারের মতো ভারতীয় গ্র্যান্ড প্রি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর এই প্রতিযোগিতা হয়েছিল, যার প্রতিটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কিংবদন্তি ড্রাইভার সেবাস্টিয়ান ভেটেল।
তবে পরবর্তীতে মূলত ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই মেগা ইভেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরপ্রদেশ সরকার সেই সময় মোটর রেসিংকে খেলাধুলা হিসেবে না দেখে বিনোদন হিসেবে গণ্য করায় প্রচুর পরিমাণে এন্টারটেইনমেন্ট ট্যাক্স চাপানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি আকাশছোঁয়া লাইসেন্স ফি, কাস্টমস ডিউটি এবং সরকারি সমর্থনের অভাবে আয়োজকদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবার অতীতের সেই সমস্ত ভুলত্রুটি শুধরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন। ২০২৮ সালের সেই হাই-ভোল্টেজ গতির লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।