আইপিও বিরোধিতা থেকে আইনি জটিলতা: টাটা সন্সের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মহারণ মুম্বাইতে!

ভারতীয় শিল্পজগতের অন্যতম পথিকৃৎ টাটা গ্রুপের হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্স আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মুম্বাইতে এক গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভায় বসতে চলেছে। রেজুলেশন অফ দ্য রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর বসতে চলা এই বৈঠকের দিকে এখন নজর রয়েছে পুরো কর্পোরেট বিশ্বের। বাজারে শেয়ার তালিকাভুক্তি (আইপিও), বর্তমান চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ট্রাস্টের ভেতরের প্রশাসনিক জটিলতা—এই ৩টি মূল এজেন্ডা বৈঠকে আলোচনার শীর্ষে থাকছে।

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাংক টাটা সন্সের নন-ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানির (এনবিএফসি) নিবন্ধন সমর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আরবিআই-এর এই সিদ্ধান্তের পর টাটা সন্সের জন্য শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২১,০০০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেও এই বাধ্যবাধকতা এড়ানো সম্ভব না হওয়ায় গ্রুপের ভেতরের সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।

আইপিও নিয়ে দ্বিমত ও দ্বন্দ্ব টাটা ট্রাস্টসের বর্তমান চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা শেয়ার বাজারে টাটা সন্সের তালিকাভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর মতে, আইপিও হলে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপর বাহ্যিক বিনিয়োগকারীদের চাপ বাড়বে। অপরদিকে, টাটা সন্সের প্রায় ১৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক শাপুরজি পালোঞ্জি গ্রুপ এবং ট্রাস্টি ভেনু শ্রীনিবাসন ও বিজয় সিং তালিকাভুক্তির পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। টাটা ট্রাস্টসের কাছে গ্রুপের প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ার থাকায় তাঁদের অবস্থানই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন নাকি মেয়াদ বৃদ্ধি? বর্তমান চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন (চন্দ্র) আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান মেয়াদের মেয়াদ শেষ হলে তিনি আর তৃতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্বে থাকবেন না। তবে আরবিআই-এর নয়া পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে ম্যানেজমেন্ট টিমের ধারাবাহিকতা রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি চন্দ্রশেখরনকে তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে পারে।

ট্রাস্টের আইনি জটিলতা ও নির্বাচন কমিটি টাটা সন্সের পরবর্তী প্রধান বেছে নেওয়ার জন্য ৫ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তবে স্যার রতন টাটা ট্রাস্টের (এসআরটিটি) বিরুদ্ধে মুম্বাই চ্যারিটি কমিশনারের আদালতে চলা মামলার কারণে বর্তমানে ট্রাস্টিদের বৈঠক আয়োজনে আইনি বাধা রয়েছে। ফলে দুটি প্রধান ট্রাস্ট মিলে যৌথভাবে প্রতিনিধি মনোনীত করতে না পারায় নির্বাচন কমিটি গঠন পিছিয়ে যাচ্ছে।

নুন থেকে শুরু করে সফটওয়্যার, গাড়ি, বিমান চালনা ও ইস্পাত খাতের মতো শীর্ষ ব্যবসায় যুক্ত এই বিশাল কনগ্লোমারেটের আইপিও যদি সত্যি বাজারে আসে, তবে তা ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা হতে চলেছে। ১৭ সেপ্টেম্বরের এই মহা-বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *