বাস্তু ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর! পূজার পুরোনো ফুল ডাস্টবিনে ফেলার আগে সতর্ক হোন

গণেশ উৎসব ঘিরে সারা দেশ জুড়ে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ঘরে ঘরে বিরাজ করছেন বাপ্পা। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় সিদ্ধিদাতাকে ফুল এবং মালা নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। কিন্তু পূজা শেষ হওয়ার পর এই বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ফুল আমরা কী করি? হয় গৃহস্থালির আবর্জনার সাথে ফেলে দেওয়া হয়, নয়তো নদীতে বা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি পদ্ধতিই ভুল। নদীতে ফুল ফেললে যেমন জলদূষণ হয়, তেমনই ডাস্টবিনে ফেলাও পূজার ফুলের মর্যাদার পরিপন্থী। তবে একটু বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলেই বাপ্পার চরণে নিবেদন করা এই বাসি ফুলগুলো ফেলে না দিয়ে গৃহস্থালির নানা প্রয়োজনে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব।

পূজার ব্যবহৃত ফুল পুনরায় কাজে লাগানোর সহজ ৪টি কৌশল:

১. গাছ থেকে নতুন চারা তৈরি পূজাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় গাঁদা ফুল। এই গাঁদা ফুল ফেলবেন না। ফুলগুলো ভালো করে শুকিয়ে নিয়ে পাপড়ির নিচ থেকে কালচে বীজগুলো বের করে নিন। এবার বাগানে বা টবের মাটিতে একটু পাতার গুঁড়ো মিশিয়ে বীজগুলো বুনে সামান্য জল দিন। কিছুদিন পর সেখান থেকে সতেজ নতুন চারা গাছ গজিয়ে উঠবে।

২. অর্গানিক কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি গাছের পুষ্টির জন্য বাসি ফুল ও পাতা চমৎকার উপাদান। আপনার বাগানের এক কোণে একটি ছোট গর্ত খুঁড়ে বা একটি বড় পাত্রে মাটি, বাসি ফুল, ফলের খোসা ও শাকসবজির অবশিষ্টাংশ একসংগে মিশিয়ে রেখে দিন। ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে এটি পুরোপুরি পচে গিয়ে একটি পুষ্টিকর জৈব সারে (কম্পোস্ট) পরিণত হবে। এটি টবের গাছে দিলে ফলন ও বৃদ্ধি দারুণ হয়।

৩. সুগন্ধি প্রাকৃতিক ধূপকাঠি বাড়িকে রাসায়নিক মুক্ত সুবাসে ভরিয়ে দিতে বাসি ফুল দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ঘরে তৈরি ধূপ। এর জন্য ফুলগুলো কড়া রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। সেই গুঁড়োর সাথে সামান্য চন্দন গুঁড়ো, কর্পূর এবং গোবরের গুঁড়ো মিশিয়ে সামান্য ঘি দিয়ে পেস্টের মতো মেখে নিন। এরপর হাত দিয়ে গোল বা লম্বা নলাকার ধূপকাঠির আকার দিয়ে শুকিয়ে নিন। এবার পূজার সময় তা জ্বালালে ঘরজুড়ে এক স্বর্গীয় সুবাস ছড়িয়ে পড়বে।

৪. হোমমেড পটপৌরি ও ঘরের প্রাকৃতিক সুবাস পূজার সুন্দর ফুলগুলো শুকিয়ে একটি খোলা পাত্রে বা কাঁচের বাটিতে রাখুন। এর সাথে কিছু সুগন্ধি ভেষজ এবং সামান্য এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ঘরের ড্রয়িং রুমে বা লিভিং রুমে রেখে দিন। এটি ঘরের মধ্যে একটি মৃদু ও মনোরম সুবাস বজায় রাখবে। তবে মনে রাখবেন, ফুলগুলোতে যাতে আর্দ্রতা না থাকে, অন্যথায় সেগুলো পচে গন্ধ হতে পারে।

বাসি ফুলকে এমন পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনর্ব্যবহার করলে পরিবেশ যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই ঘরের কাজও সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *