‘ডিসেম্বরেই আমি দেশে ফিরছি!’ ফাঁসির আদেশের মাঝেই বিস্ফোরক ঘোষণা শেখ হাসিনার, ওপারে তুঙ্গে শোরগোল

ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। বিচারক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনাল গত বছরের নভেম্বরে হাসিনার অনুপস্থিতিতে ফাঁসির রায় দিয়েছিল। মঙ্গলবার সেই একই ট্রাইব্যুনাল হাসিনা ঘনিষ্ঠ বাকি ৭ নেতার বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল। তবে সাজাপ্রাপ্ত কোনও নেতাই বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।

কোন অপরাধে এই সাজা?

২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় হত্যা, হত্যায় প্ররোচনা এবং উসকানিসহ মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ওই সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের জেরে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছিল শেখ হাসিনার। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালানোর সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

মঙ্গলবার এই রায়ের পর ২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৮ জনে, যার মধ্যে ২২ জনেরই মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ হয়েছে। এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের সম্পত্তির অর্ধেক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টন করা হবে।

প্রতিরক্ষা পক্ষের যুক্তি ও পরবর্তী পরিস্থিতি

অন্যদিকে, এই রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেছেন যে, অভিযুক্তরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তাঁদের সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের কারণে এই সাজা দেওয়া হয়েছে, এবং ট্রাইব্যুনাল চাইলে তুলনামূলক কম শাস্তিও দিতে পারত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসার পর থেকেই এখানেই রয়েছেন ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা। তিনি আদালতের বিচারিক কর্তৃত্ব বা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হলেও, সমস্ত আইনি জল্পনা ও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়েই আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি নিজের ইচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *