জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতা না প্রশাসনিক ঢিলেঢামি? ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পে বাংলার চিত্র দেখলে চমকে যাবেন

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত স্তরে প্রাক্তন শাসকদলের একাংশ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল। আর তার জির প্রভাব এবার সরাসরি গিয়ে পড়ল কেন্দ্রের নতুন ১২৫ দিনের কাজের রিপোর্টে। চাঞ্চল্যকর তথ্যে সামনে এসেছে যে, কেন্দ্রের নতুন ‘ভিবি জিরাম জি’ (VB GRAM G) প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজের খরচ সম্পূর্ণ শূন্য।
দেশজুড়ে কি অবস্থা?
গত ১ জুলাই গোটা দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও ১২৫ দিনের কাজের এই নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, দেশের মোট ২ লক্ষ ৬৮ হাজারের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে প্রায় ২৪.৫১ শতাংশ ক্ষেত্রে অর্থাৎ ৬৬ হাজারের বেশি পঞ্চায়েতে এক টাকাও খরচ হয়নি। তবে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যের মোট ৩ হাজার ৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২ হাজার ৮৪৫টিতে অর্থাৎ প্রায় ৮৫ শতাংশ পঞ্চায়েতে একটি টাকাও খরচ করা হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি এই প্রকল্পে অনেকটাই সফল হলেও, বাংলার এই বেহাল দশা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কেন এই পরিস্থিতি?
পঞ্চায়েত দফতর ও প্রশাসনের অন্দরের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ দিন রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকার পর গত ৯ জুন তা ফের চালু হয়। তার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হয় ১২৫ দিনের এই নতুন প্রকল্প। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় প্রশাসনিক পরিকাঠামো কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। এছাড়া নতুন নিয়মে জরিপ, বিল তৈরি এবং পোর্টালে (MIS) তথ্য আপডেটের কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। এর পাশাপাশি পুরনো আমলের ভুয়ো উপভোক্তাদের তালিকা বাদ দেওয়া এবং টানা বর্ষার কারণে কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক জানিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া ব্লকগুলিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশেষ বৈঠক ও পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। পুজোর পর এই প্রকল্পের কাজে গতি আসবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।