২০২৯-এর লোকসভা ভোটে কি হুহু করে বাড়ছে বুথের সংখ্যা? নির্বাচন কমিশনের সামনে এল বিরাট তথ্য!

আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে (2029 Lok Sabha Polls) দেশে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা পোলিং স্টেশনের সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি একটি তথ্য অধিকার বা আরটিআই (RTI) আবেদনের জবাবে এমনই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দেশজুড়ে মোট পোলিং স্টেশনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৫.৩৮ লক্ষে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোট ১০.৫২ লক্ষ ভোটকেন্দ্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইভিএম এবং খরচের প্রাথমিক হিসাব

আরটিআই-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে নতুন ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কমিশন। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে আনুমানিক ৪৮৬ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছে। বর্তমানে কমিশনের হাতে মজুত রয়েছে প্রায় ৩০.৪৮ লক্ষ ব্যালট ইউনিট (BU) এবং ২১.৯২ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট (CU)। যেখানে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় ১৪.৮৮ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ১১.৩০ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট কমিশনের ভাণ্ডারে ছিল।

নতুন কেনাকাটা নাকি পুরনো মেশিনের বদল?

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৯ সালের ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে মোট ৩.৫৭ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ১.২৫ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট নতুনভাবে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কমিশন ঠিক যতগুলি নতুন মেশিন কেনার পরিকল্পনা করেছে, ঠিক সমসংখ্যক পুরনো বা মেয়াদ উত্তীর্ণ মেশিন এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বদলে বা ‘রিটায়ার’ করা হবে।

এর থেকেই স্পষ্ট যে, নতুন ইভিএম কেনার মূল উদ্দেশ্য দেশজুড়ে পরিকাঠামো রাতারাতি বিরাট পরিমাণে বৃদ্ধি করা নয়, বরং পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনগুলির জায়গায় নতুন মেশিন প্রতিস্থাপন করা। মূলত ২০২৯ সালের নির্বাচনের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা মেটাতে বর্তমানে মজুত থাকা এবং এই নতুন মেশিনগুলিকেই সুচারুভাবে ব্যবহার করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *