মিটারে চোখ নেই, অথচ পকেটে পড়ছে বড় টান! ১৬ হাজার স্মার্ট মিটার বিকল হতেই চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ

জম্মু-কাশ্মীরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ যেন কিছুতেই কমছে না। গোটা প্রদেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার স্মার্ট মিটার হয় বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে, নয়তো পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগ, মিটারগুলি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁদের প্রকৃত বিদ্যুতের ব্যবহারের পরিবর্তে চড়া হারে ‘গড় বিল’ বা এভারেজ বিল পাঠানো হচ্ছে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই মনগড়া গড় বিল আসল খরচের তুলনায় অনেক বেশি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অনেক গ্রাহকের ঘরের স্মার্ট মিটার গত দুই থেকে তিন বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। বারবার দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি, বদলানো হয়নি মিটারগুলি। নিয়ম অনুযায়ী, মিটার খারাপ থাকলে বিগত কয়েক মাসের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গড় বিল তৈরি করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ কম খরচ হলেও গ্রাহকদের ঘাড়ে চটজলদি চড়া দামের বিলের বোঝা চেপে বসছে।

জেপিডিসির বক্তব্য ও পরিসংখ্যান:
জম্মু ও কাশ্মীর পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (JPDCL)-এর তরফেও রাজ্যে প্রায় ১৬ হাজার মিটার খারাপ থাকার কথা স্বীকার করা হয়েছে। পর্ষদের দাবি, এই খারাপ বা পুড়ে যাওয়া স্মার্ট মিটারগুলি বদলে ফেলার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার। তবে গত এক-দুটি বছরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে সব মিটার বদলে ফেলা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরে মোট প্রায় ১২.৫ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৮.৭৫ লক্ষ গ্রাহকের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। সেই হিসেবে এই খারাপ বা অকার্যকর মিটারের সংখ্যা মোট ইনস্টল করা মিটারের মাত্র ১.৮ শতাংশ। জেপিডিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন মিটার লাগানোর কাজ চলছে। প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ নতুন মিটার বসানো হচ্ছে। একইসঙ্গে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত মিটারগুলিও পর্যায়ক্রমে বদলে ফেলা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে কিছুটা স্বস্তি ও কড়া পদক্ষেপ:
দপ্তরের দাবি, একসময় রাজ্যে খারাপ স্মার্ট মিটারের সংখ্যা ২৫ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বর্তমানে কমে ১৬ হাজারে এসে ঠেকেছে। স্মার্ট মিটারের ডেটা নিয়মিত আপডেট হওয়ার কারণে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করা এবং নতুন অভিযোগ জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আসছে।

এদিকে, সময়মতো অচল বা পোড়া স্মার্ট মিটার না বদলানোর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জেপিডিসি। গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিংয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত খারাপ মিটার বদলানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্ষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দেশ অমান্য করা হলে বা মিটার বদলাতে কোনো রকম দেরি হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর আর্থিক জরিমানাও করা হবে।

তা সত্ত্বেও এই মুহূর্তে সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই সমস্ত গ্রাহকদের পরিস্থিতি, যাঁদের মিটার দীর্ঘকাল ধরে বিকল এবং তাঁরা বাধ্য হয়ে চড়া গড় বিল পরিশোধ করে চলেছেন। খুব শীঘ্রই সমস্ত অচল মিটার বদল করে যাতে আসল ব্যবহারের ভিত্তিতে বিলিং ব্যবস্থা ফের চালু হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *