মাসে ৮ লক্ষ আয় এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের! তবুও বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছেলের?

মাসে প্রায় আট লক্ষ টাকা বেতন পাওয়া এক প্রতিষ্ঠিত এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তেলেঙ্গানার করিমগরের কোথিরামপুর এলাকায় সম্পত্তি বিবাদের জেরে নিজেরই বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, জ্যাম্মীকুंटा মণ্ডলের ভাবিলালা গ্রামের বাসিন্দা দেবুলপল্লী লক্ষ্মণ ২০১০ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে রবি কুমার হায়দ্রাবাদে একজন সফল এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন। দীর্ঘদিনের কষ্টের জমানো টাকায় লক্ষ্মণবাবু ২০০২ সালে কোথিরামপুরে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বিশ্বাস করে সেই বাড়ির মালিকানা ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে ট্রান্সফার করে দেন তিনি।

কিন্তু অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকেই সেই বাড়িটি জোর করে খালি করে দেওয়ার জন্য মা-বাবার ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে ছেলে রবি কুমার। বর্তমানে ওই বাড়ির মাসিক ভাড়ার টাকাই এই বয়স্ক দম্পতির বেঁচে থাকার একমাত্র আর্থিক অবলম্বন। বুকফাটা কান্নায় তাঁরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যে এসে মাথার ছাদটুকু কেড়ে নেওয়া হলে অসুস্থ স্ত্রী জয়লক্ষ্মীকে নিয়ে তাঁরা কোথায় আশ্রয় নেবেন, সেটাই তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। বিশেষ করে জয়লক্ষ্মী দেবী গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁদের এই পরিস্থিতি আরও বেশি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

ছেলের এমন অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে এবং নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই দম্পতি। সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি দলিল বাতিল করে বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, অসহায় এই দম্পতির প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *