‘এটাই আপনাদের শেষ সুযোগ!’ সংখ্যালঘুদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

আসন্ন উপনির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে একরকম আল্টিমেটাম দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের সঙ্গে থাকার আসল পরীক্ষা আগামী ৬ অক্টোবর—এমনটাই মন্তব্য করে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে এক প্রকার হুঙ্কার ছাড়লেন তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, সরকারের হাত ধরে যদি তাঁরা কাজ করতে চান, তবে এই পরীক্ষাতেই তা প্রমাণ করতে হবে।

নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি কল্পনাতীত মার্জিনে জয়লাভ করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লক এবং রেজিনগর বরাবরই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনীর সাপ্লিমেন্টারি তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম থেকে বাদ পড়া মোট ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ বা প্রায় ২,৭০০ জনই ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামের প্রায় ৭৫ শতাংশ হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির পক্ষে থাকলেও, ভোটের ব্যবধান বা মার্জিনের মূল চাবিকাঠি অনেকটাই নির্ভর করে এই ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের ওপরেই।

অন্যদিকে, রেজিনগরের ক্ষেত্রেও সংখ্যালঘু ভোটাররাই মূল ফ্যাক্টর। এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই সংখ্যালঘু। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসনে নিকটবর্তী বিজেপি প্রার্থীকে প্রায় ৫৮,৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। নন্দীগ্রামের সভা থেকেই সেই রেজিনগরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু।

তিনি জোরের সঙ্গেই বলেন, ‘‘ভোট করতে আমরা জানি, ভোট করাতেও আমরা জানি। বিজেপি এমন মার্জিনে জিতবে, যা কেউ কল্পনা করতে পারবে না।’’ সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে তাঁর সংযোজন, তাঁরা আদতে কার সঙ্গে থাকতে চান, তা এবার নিজেদেরই ঠিক করতে হবে। সরকারের সঙ্গে থাকার জন্য এটাই তাঁদের কাছে শেষ সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *