বছরে ৪ বার ডিএ বৃদ্ধি! অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় প্রস্তাব সামনে আসতেই আনন্দে মেতে উঠলেন সরকারি কর্মীরা!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর। অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) প্রক্রিয়া এগোতেই নতুন নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চেন্নাই ও পুদুচেরিতে বৈঠকের পর এবার চণ্ডীগড় এবং বেঙ্গালুরুতে পরবর্তী দফার বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এরই মধ্যে কর্মী সংগঠনগুলির তরফে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং বেতন কাঠামো বদল নিয়ে একাধিক বড় দাবি তোলা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিরাট সুবিধা পাবেন কোটি কোটি কর্মী ও পেনশনভোগী।
বছরে চার বার ডিএ বৃদ্ধির আবেদন
বর্তমানে বছরে দুই বার— জানুয়ারি ও জুলাই মাসে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির নিয়ম রয়েছে। তবে এই নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী সংগঠনগুলি। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে বছরে দু’বারের বদলে প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থাৎ বছরে মোট চার বার ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা শুরু হোক।
২৫ শতাংশ ডিএ হলেই মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি
কর্মী সংগঠনগুলির নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডিএ-র পরিমাণ ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেই তা মূল বেতনের (Basic Pay) সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হোক। এর ফলে মূল বেতন এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। যেহেতু বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং পরিবহণ ভাতার মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলি মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই হিসাব করা হয়, তাই মূল বেতন বাড়লে আনুষঙ্গিক ভাতাও স্বাভাবিকভাবেই অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটেন্সি মেশিনারি (NC-JCM)-এর মতো সংগঠনগুলির মতে, কর্মীদের বেতন যুক্তিসঙ্গতভাবে বৃদ্ধি পেতে অনেক সময় প্রায় ১০ বছর লেগে যায়। তাই ডিএ ২৫ শতাংশ অতিক্রম করলেই তা বেসিক পের সঙ্গে জুড়ে দিলে কম সময়ে বড় অংকের বেতন বৃদ্ধি সম্ভব।
লেভেল ৬ কর্মীর বেতন কীভাবে দ্বিগুণ হতে পারে?
কর্মী সংগঠনগুলির এই প্রস্তাব যদি অষ্টম বেতন কমিশন মেনে নেয়, তবে তার প্রভাবে কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়তে পারে, তার একটি সম্ভাব্য হিসেবও সামনে এসেছে। সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় লেভেল ৬-এর একজন কর্মীর মূল বেতন যদি ৩৫,৪০- টাকা ধরা হয় এবং ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বিবেচনা করা হয়, তবে অষ্টম বেতন কমিশনে সংশোধিত মূল বেতন ৭৪,৩৪০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এছাড়াও, বার্ষিক ৭ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং গড়ে ৪ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধি ধরে এগোলে, ২০৩৩ সালের ১ জানুয়ারি নাগাদ সেই কর্মীর মূল বেতন ১,১৯,৩৭৪ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ডিএ মিলিয়ে মোট বেতন প্রায় ১,৫২,৭৯৮ টাকায় দাঁড়াতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে চূড়ান্ত সুপারিশের জন্য এখন কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।