গোর্খাল্যান্ডের দাবি ভুলে নতুন চাল বাম নেতার! দার্জিলিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন বোমা ফাটালেন অশোক ভট্টাচার্য?

পাহাড়ে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের দাবি নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতে কখনো গোর্খাল্যান্ড, কখনো জিটিএ-র ক্ষমতা বৃদ্ধি, আবার কখনো সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় দার্জিলিংকে আনার দাবি ঘিরে বছরের পর বছর ধরে আবর্তিত হয়েছে পাহাড়ের রাজনীতি। এই পুরনো বিতর্কের মাঝেই এবার এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রস্তাব নিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা অশোক ভট্টাচার্য।

নতুন বই ও সাংবিধানিক প্রস্তাবের মূল কথা

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ির রামকিঙ্কর প্রেক্ষাগৃহের প্রদর্শনী কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে অশোক ভট্টাচার্যের চতুর্দশ গ্রন্থ— ‘ভারতীয় সংবিধানে স্বশাসন এবং ষষ্ঠ তফসিল’। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ বামপন্থী নেতা মানিক সরকার এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন। বই প্রকাশের আগেই এর বিষয়বস্তু নিয়ে পাহাড়ি রাজনীতিতে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বইটিতে জিটিএ-র বর্তমান কাঠামোকে যথেষ্ট মনে না করে দার্জিলিংয়ের জন্য ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আরও শক্তিশালী স্বশাসন এবং সংবিধানের ৩৭১ ধারার মতো বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার জোরালো সওয়াল করেছেন লেখক। তাঁর মতে, পাহাড়ে ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আবেগ ও পরিচয়ের প্রশ্নটিকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রেখেই স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।

পরিসংখ্যানে কী রয়েছে?

এই দাবির সপক্ষে বইটিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, দার্জিলিং পাহাড়ে বর্তমানে প্রায় ৩২ শতাংশ নিবন্ধিত উপজাতি জনসংখ্যা রয়েছে। পাশাপাশি আরও ১১টি জনগোষ্ঠীকে উপজাতি মর্যাদা দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। ওই ১১টি সম্প্রদায়কে উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে পাহাড়ের উপজাতি জনসংখ্যার হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে দার্জিলিংকে ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনার দাবি আরও বেশি সাংবিধানিক ভিত্তি পাবে বলে মত তাঁর।

পাশাপাশি বইটিতে শুধুমাত্র দার্জিলিং নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন স্বশাসিত পরিষদের ইতিহাস— বিশেষ করে ত্রিপুরার অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের প্রসঙ্গও বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৩৫-১৯৮৬ সালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং সংসদীয় বিলের প্রসঙ্গ টেনে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে স্বশাসনের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুখবন্ধে সমৃদ্ধ এই বইটি প্রকাশ পাওয়ার পর পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে যে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *