ফেলে দেওয়া বর্জ্য দিয়েই মাথার গোঁজার ঠাঁই! পরিবেশ বাঁচাতে অভিনব কায়দায় বাড়ি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন দম্পতি?

প্লাস্টিকের বোতল সাধারণত একবার ব্যবহারের পরই যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। কিন্তু সেই ফেলে দেওয়া আবর্জনা থেকেই যদি আস্ত একটা বাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয়? শুনতে অবাক লাগলেও জার্মান নির্মাণকর্মী আন্দ্রেয়াস ফ্রোজে ঠিক এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। হন্ডুরাসে কাজ করার সময় প্লাস্টিক বর্জ্যের বিশাল পাহাড় দেখে তাঁর মাথায় এই অভিনব ভাবনা এসেছিল।
কীভাবে তৈরি হয় এই ‘বোতল-ইট’?
ফ্রোজের এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল প্রথমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বালি দিয়ে ঠেসে ভরাট করা হয়। ভিতরের বালি শক্তভাবে চাপা থাকায় নরম ও হালকা প্লাস্টিকের বোতলটি এক নিমেষে পরিণত হয় একটি শক্ত ব্লকের মতো উপকরণের। এরপর সেই ‘বোতল-ইট’গুলি সারি করে দেওয়ালের মধ্যে বসানো হয় এবং দড়ি ও সিমেন্টের মর্টারের সাহায্যে সেগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে মজবুতভাবে যুক্ত করা হয়। এভাবেই তৈরি হয় পরিবেশবান্ধব বাড়ির দেওয়াল।
এই বাড়ির বিশেষত্ব ও খরচ
প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই পদ্ধতিতে তৈরি কোনো কাঠামোর প্রায় ৭০ শতাংশই পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। প্রচলিত কংক্রিট ব্লকের তুলনায় এর বেশ কিছু দুর্দান্ত সুবিধাও রয়েছে। যেমন—
-
এই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি বাড়ি ৩৬ টন ওজনের ভারী সবুজ ছাদ অবলীলায় বহন করতে পারে।
-
সবচেয়ে বড় কথা, এই উপায়ে বাড়ি তৈরি করলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
-
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বাড়ির সম্ভাব্য স্থায়িত্ব প্রায় ৩০০ বছর পর্যন্ত হতে পারে!
শুধু বাড়ি তৈরিই নয়, একই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ৩৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার জলের ট্যাঙ্ক, ক্যাম্পিংয়ের ইগলু এবং প্রাচীন রোমান জলসেতুর প্রতিরূপ পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যকে বোঝা না ভেবে তাকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার এই অনন্য ধারণা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং জাতিসংঘের একটি প্রকাশনাতেও স্থান পেয়েছে। পরিবেশ রক্ষা আর সাশ্রয়ী নির্মাণ যে একসঙ্গে হাত ধরে চলতে পারে, আন্দ্রেয়াস ফ্রোজের এই উদ্যোগ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।