শত্রুদেশের মাটিতে ৫০ ঘণ্টার মরণপণ লড়াই! হলিউডের থ্রিলারকেও হার মানাবে মার্কিন পাইলটের অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার কাহিনি!

শরীর ক্ষতবিক্ষত, মেরুদণ্ড ও হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে, চারপাশে মৃত্যুভয় আর মাথার ওপর শত্রুদেশের সেনার কড়া নজর—এমন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হার না মানা এক অদম্য মানসিকতার অবিশ্বাস্য কাহিনী সামনে এল। ইরানের ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার পর ভাঙা হাড় সম্বল করে প্রায় সাত হাজার ফুট পাহাড়ি পথ চড়ে নিজেকে বাঁচিয়ে আনলেন এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা। টানা ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অলৌকিক বেঁচে থাকার লড়াই হার মানাবে যেকোনও হলিউডি থ্রিলারের চিত্রনাট্যকেও।
কীভাবে ঘটেছিল এই বিপত্তি?
গত এপ্রিল মাসে ইরানের ইসফাহানের কাছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় অভিযানের সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান কাঁধে রেখে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়। বিমানের দুই কর্মকর্তার মধ্যে পাইলট নিরাপদে প্যারাশুট নিয়ে নামলেও বিপত্তি ঘটে উইপনস সিস্টেমস অফিসার ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’-র ক্ষেত্রে। তাঁর প্যারাশুটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি প্রায় ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে সরাসরি পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, এই ভয়াবহ পতনে তাঁর পিঠের হাড়, মেরুদণ্ড, কাঁধ ও হাত ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং মুখে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
৭০০০ ফুট পাহাড়ি পথে ৫০ ঘণ্টার লড়াই
পতনের পর হুঁশ ফিরতেই তিনি বুঝতে পারেন, ক্র্যাশ সাইটে পড়ে থাকলে নির্ঘাত মৃত্যু অথবা ইরানের হাতে বন্দি হতে হবে। পাইলটের থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে মরুভূমি ঘেরা এক গিরিখাতে একা পড়ে থাকলেও তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে কোনও মূল্যে উঁচু জায়গায় পৌঁছাতে হবে। ভাঙা শরীর টেনে-হিঁচড়ে তিনি খাড়া পাথুরে দেওয়াল বেয়ে চড়তে শুরু করেন প্রায় ৭০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের শৈলশিরায়। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ব্রাভো জানান, “নিজের মনের জোর হারিয়ে ইরানি টেলিভিশনের পর্দায় যুদ্ধবন্দি হিসেবে মুখ দেখাতে চাইনি, সেটাই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছিল।”
সেখানে কাটানো দুটি দিন ও রাত ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। খাবার বা জলের কোনও সংস্থান না থাকায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে মার্কিন কন্ট্রোলে একটি ছোট বার্তা পাঠান তিনি—‘আই অ্যাম হার্ট, আই অ্যাম মুভিং’ (আমি আহত, কিন্তু এগিয়ে চলেছি)।
রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান
অবশেষে সিআইএ এবং মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সমন্বয়ে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। গত ৪৬ বছরে এই প্রথম প্রায় ৯২ জন মার্কিন কমব্যান্ডো সরাসরি ইরানের মাটিতে পা রাখেন। মার্কিন বোমারু বিমান ও ড্রোন দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে বিশেষ প্যারা-রেসকিউ দল সেই সাত হাজার ফুট পাহাড়ে পৌঁছে প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাভোকে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অক্ষত অবস্থায় ফেরা এই মার্কিন সেনার গল্পকে আধুনিক যুগের এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।