পকেটে থাকা পুরনো ১০ টাকার নোটের এই বিশেষ দিকটি খেয়াল করেছেন? দারুণ এক ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে এর নেপথ্যে!

দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য টাকা আমরা অনেকেই হাতবদল করি, কিন্তু পকেটে থাকা নোটটি কখনও কি খুঁটিয়ে দেখেছেন? বিশেষ করে পুরনো ১০ টাকার নোটের পিছনের দিকে থাকা হাতি, গণ্ডার ও হরিণের ছবি অনেকেরই নজর কেড়েছে। তিনটি প্রাণীর এই অদ্ভুত সমন্বয়ের পিছনে নিছক কোনো সৌন্দর্যবর্ধন নয়, বরং লুকিয়ে ছিল এক বিশেষ উদ্দেশ্য। ভারতের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যকে তুলে ধরতেই সেই সময় ওই ছবিগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল।

বন্যপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতীক

পুরনো ১০ টাকার নোটে থাকা গণ্ডারটি মূলত অসমের বিখ্যাত কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের কথা মনে করিয়ে দেয়। একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই অভয়ারণ্য অসমের বন্যপ্রাণের অন্যতম প্রতীক। অন্যদিকে, হাতি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সাংস্কৃতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রাণী, যা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী প্রাণী হিসেবেও স্বীকৃত। বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় হাতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে থাকা হরিণও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। এই তিন প্রাণীকে একসঙ্গে নোটে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে ভারতের সুসমৃদ্ধ প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছিল।

নকশায় বদল এল যেভাবে

মুদ্রা কেবল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম নয়; নোটের নকশায় প্রায়শই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের নানা দিক ফুটে ওঠে। তবে ২০১৮ সালে নতুন মহাত্মা গান্ধী সিরিজের ১০ টাকার নোট চালু হওয়ার পর এর নকশায় বড় পরিবর্তন আসে। নতুন নোটের পিছনে হাতি, গণ্ডার ও হরিণের পরিবর্তে স্থান পায় ঐতিহাসিক কোনার্কের সূর্য মন্দির। ফলে নতুন সিরিজের নোটগুলিতে আর দেখা মেলে না ওই তিন প্রাণীর ছবির। যদিও পুরনো নোটগুলি এখনও বৈধ মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হয়, তাই মাঝেমধ্যে প্রচলনে সেই পুরোনো বন্যপ্রাণের নকশাওয়ালা নোট চোখে পড়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *