মহারাষ্ট্রের কায়দায় বাংলায় গণেশ পুজোয় চরম রাজনৈতিক তরজা! ব্যারাকপুরে কার হুঙ্কারে কাঁপছে ময়দান?

মহারাষ্ট্রে গণেশ চতুর্থী মানেই উৎসবের এক বিরাট বিস্ফোরণ। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বিশাল মণ্ডপ—গণেশ আরাধনাকে ঘিরে সেখানে কয়েক দিন ধরে চলে জমজমাট উৎসবের আবহ। বাংলায় এতদিন সেই ছবিটা দেখা না গেলেও, বর্তমানে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। জগদ্দল, কাঁকিনাড়া, টিটাগড় থেকে সোদপুর—বেশ কয়েক বছর ধরেই দুর্গাপুজোর আদলে জাঁকজমক করে গণেশ পুজো হচ্ছে। তবে এবারের এই উৎসবে যুক্ত হয়েছে তীব্র রাজনীতির রংও। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম গণেশ চতুর্থীতে একের পর এক পুজোর উদ্বোধনে সামনে চলে এলেন বিজেপির মন্ত্রী, বিধায়ক ও শীর্ষ নেতারা।
মহারাষ্ট্রের মতো টানা সাত দিন ধরে উৎসব না হলেও, এ বছর বুধ-বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সাড়ম্বরে চলছে গণেশ পুজোর অনুষ্ঠান। ফলে দুর্গাপুজোর অনেক আগেই শিল্পাঞ্চলে উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। তবে এ বারের চিত্রে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পুজোর মঞ্চে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। সোদপুরের বিটি রোড সংলগ্ন এলাকায় ‘গণপতি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রথম বর্ষের গণেশ পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পুজোর সূচনা করে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্য রাজনীতি ও শিল্প-বাণিজ্যের প্রসঙ্গ। দিলীপের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলায় গণেশ পুজো আরও বেশি সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে। গণেশ আরাধনার হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গও শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতে দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে টিটাগড়ের ছবিটাও একই রকম। ‘বীর বালক সমিতি’-র গণেশ উৎসবসহ একাধিক পুজোর উদ্বোধন করেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর বক্তব্যেও উঠে আসে আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা। অর্জুনের দাবি, আগের আমলে রাজ্যে বিভিন্ন পুজো করতে মানুষকে নানা বাধার মুখে পড়তে হত, কিন্তু বর্তমান সরকার আসায় সনাতনী হিন্দুরা এখন স্বাধীনভাবে উৎসব পালন করতে পারছেন। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের গণেশ পুজোর এই জাঁকজমককেই সেই ‘পরিবর্তন’-এর উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন তিনি।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি অর্জুন। পুজোর মঞ্চ থেকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বামেদের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান তিনি। ‘শারদ উৎসব’ নাম দেওয়া নিয়ে বামেদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিবহণমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দুর্গোৎসবকে অন্য নামে অভিহিত করার অবস্থান থেকে তারা সরে না দাঁড়ালে রাজনৈতিকভাবে তার তীব্র প্রতিহত করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রীদের এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তা প্রদান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে সেই মঞ্চ যখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে, তখন উৎসব ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।