রেডিও আর টেপ রেকর্ডারের খাঁটি বাংলা নাম জানেন কি? জানলে অবাক হবেন আপনিও!

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বহু বিদেশি শব্দ এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে, সেগুলির খাঁটি বাংলা প্রতিশব্দ আজ প্রায় অচেনাই ঠেকে। বাঙালি সংস্কৃতির স্মৃতি ও বিনোদনের অন্যতম দুই মাধ্যম ছিল ‘রেডিয়ো’ এবং ‘টেপ রেকর্ডার’। আধুনিক ডিজিটাল যুগে ক্যাসেট ও ফিতার ব্যবহার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হলেও, এই যন্ত্রগুলির বাংলা ভাষার পারিভাষিক পরিচয় আজও অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক।
ইংরেজি ‘রেডিয়ো’ (Radio) শব্দের সর্বাধিক প্রচলিত এবং জনপ্রিয় বাংলা প্রতিশব্দ হল ‘বেতার’ বা ‘বেতার যন্ত্র’। মূলত কোনো রকম তারের সংযোগ ছাড়াই বায়ুতরঙ্গের মাধ্যমে শব্দ পরিবাহিত হয় বলেই এর নামকরণ করা হয়েছিল ‘বেতার’।
অন্যদিকে, ‘টেপ রেকর্ডার’ (Tape Recorder)-এর সবচেয়ে নিখুঁত বাংলা পরিভাষা হল ‘স্বরধর যন্ত্র’। চৌম্বকীয় টেপ বা ফিতা ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর কিংবা যে কোনো শব্দ রেকর্ড করা এবং পরবর্তীতে তা পুনঃউৎপাদন বা বাজানোর ক্ষমতার কারণেই ব্যাকরণগতভাবে একে ‘স্বরধর যন্ত্রবিশেষ’ বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া কাজের সুবিধার্থে একে অনেক সময় ‘শব্দসংগ্রাহক’ বা ‘শব্দলিপিকার’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। অবশ্য সাধারণ কথাবার্তা ও লেখার ক্ষেত্রে ‘টেপ রেকর্ডার’ শব্দটিরই প্রচলন সবচেয়ে বেশি।
একসময় মহালয়ার ভোরে ‘বেতার’ যন্ত্রে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা কিংবা ‘স্বরধর যন্ত্রে’ প্রিয় গানের ক্যাসেট বাজানোর মধ্যে এক আলাদা নস্ট্যালজিয়া কাজ করত। গবেষকদের মতে, প্রাত্যহিক ব্যবহারে বিদেশি শব্দ দুটি সরাসরি জায়গা করে নিলেও, ‘বেতার’ ও ‘স্বরধর যন্ত্র’-এর মতো পরিভাষাগুলি বাংলা ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ ও সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারকেই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে।