পুরুষদের পথেই মহিলা দল! এশিয়া কাপে ট্রফি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিসিসিআইয়ের!

গত বছর এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই বাইশ গজে পাকিস্তান ও তাদের সমর্থিত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নিজেদের অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছে ভারত। সেই রেশ এবার জোরালোভাবে দেখা গেল মহিলা এশিয়া কাপের মঞ্চেও। পুরুষ দলের পথ অনুসরণ করে রবিবার দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া সেরা হওয়ার পর পিসিবি চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে ভারতীয় মহিলা দল। হরমনপ্রীত কৌরদের এই সাহসী ও প্রতিবাদী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হলেও, সম্পূর্ণভাবে বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে এর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোর্ড সচিব সাফ জানিয়ে দেন যে, এটি হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে একটি পূর্বপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত। দেবজিৎ সইকিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সমস্ত দিক বিবেচনা করে এটি আমাদের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এসিসি-কে আমরা লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে ভারতীয় দল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না।” মহসিন নকভির নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও বোর্ড সচিব স্পষ্ট করে দেন যে, পহেলগাঁও হামলার ক্ষত এবং দেশের সম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনোভাবেই প্রতিপক্ষের প্রধানের হাত থেকে ট্রফি নেওয়া সম্ভব নয়।
সইকিয়ার সংযোজন, “পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং দেশের সম্মানের কথা ভেবে বিসিসিআই মনে করেছে ভারতীয় দলের ওইভাবে ট্রফি গ্রহণ করা উচিত নয়।” তবে খেলার মাঠে নিজেদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না, সে কথাও জোরের সঙ্গে জানান তিনি। সইকিয়ার মতে, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্য দেশ হিসেবে খেলাধুলো সংক্রান্ত যাবতীয় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তারা এশিয়া কাপে অংশ নিয়েছেন। খেলার স্পিরিট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতা অন্য জায়গায়, কিন্তু ভিনদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ এবং পাকিস্তানের কোনো রাজনৈতিক নেতার হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করা—এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা।
সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে সইকিয়া আরও জানান, দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত এখনও চলমান। দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে চলা অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তার হাত থেকে ট্রফি কোনোভাবেই গ্রহণ করা যায় না। গত বছর পুরুষ দল যে অবস্থান নিয়েছিল, মহিলা দলও ঠিক সেই একই সিদ্ধান্তকে সর্বতোভাবে সমর্থন জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, দুবাইয়ের মাটিতে রবিবারের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আরও একবার এশিয়া কাপের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ওভারে ১৮৩ রান তুললে, জবাবে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৩৯ বলে ৬৮ রান এবং একটি উইকেট শিকার করে ফাইনালের সেরা নির্বাচিত হন শেফালি বর্মা।