পা অবশ হয়ে যাওয়ার সমস্যা কি বাড়ছে? অজান্তেই কোন বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন আপনার স্নায়ু?

বারবার পা অসাড় ও ঝিনঝিনি ধরে যাচ্ছে? কোন মারাত্মক রোগের লক্ষণ এগুলি, জেনে নিন এখনই
পায়ে মাঝে মাঝেই ঝিনঝিনি ধরা, অসাড় ভাব, জ্বালা বা টান ধরার মতো সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকা, অতিরিক্ত হাঁটাচলা কিংবা অস্বস্তিকর জুতো পরার কারণে সাময়িকভাবে এমনটা হতে পারে। তবে এই সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে স্নায়ুর গুরুতর সমস্যা, ডায়াবিটিস, রক্তসঞ্চালনে গোলযোগ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টির ঘাটতি।
পায়ে ‘পিন ফোটার’ মতো অনুভূতির প্রধান কারণ হতে পারে স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ বা পেরিফেরাল নার্ভের গোলযোগ। বিশেষ করে ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অসাড়তা, জ্বালা বা ব্যথার সমস্যা চাগাড় দিয়ে ওঠে, যা রাতে আরও বেশি অনুভূত হয়। পাশাপাশি, শরীরে ম্যাগনেশিয়াম বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও এমন পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। দুধ, দই, পনির, ডিম, মাছ কিংবা বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার এই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে কোনো সাপ্লিমেন্ট খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিহাইড্রেশন, পেশির ক্লান্তি কিংবা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণেও পায়ে তীব্র ক্র্যাম্প হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
কী করবেন?
-
একটানা দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বা পা ক্রস করে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
-
পায়ের আঙুলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এমন আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করুন।
-
নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান।
-
খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও প্রোটিন সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য রাখুন।
মনে রাখবেন, অসাড়তা বা ঝিনঝিনি যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, হাঁটার সময় সমস্যা হয় কিংবা পায়ে কোনো ক্ষত হলেও যদি আপনি তা অনুভব করতে না পারেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে শরীরের কোনো একপাশে অসাড়তা বা দুর্বলতার সঙ্গে যদি কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে তা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।