আর রকেট বানাবে না ইসরো! তবে কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভারতের মহাকাশ যুগ? আসল সত্যটা জানলে চমকে যাবেন!

আর রকেট তৈরি করবে না ISRO! ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আসছে কোন ঐতিহাসিক বদল?

কয়েক দশক ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিরলস কাজ করে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা—ইসরো (ISRO)। রকেটের নকশা তৈরি থেকে শুরু করে নির্মাণ, সংযোজন, পরীক্ষা ও উৎক্ষেপণ—সবকিছুই এতদিন নিজেদের কাঁধে রেখেছিল এই শীর্ষ সংস্থা। তবে এবার রকেট তৈরির মতো ‘নিত্যনৈমিত্তিক’ কাজ থেকে সরে আসার এক বড় প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরো।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত?

ইসরোর এই পদক্ষেপে সংস্থার কার্যপদ্ধতিতে বিরাট বদল আসতে চলেছে। ভবিষ্যতে রকেট বা লঞ্চ ভেহিকেল তৈরির দায়িত্ব পুরোপুরি বেসরকারি কোম্পানি এবং সরকারি খাতের অন্যান্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, রকেটের মতো পরিণত প্রযুক্তির নিয়মিত উৎপাদন পর্ব থেকে ইসরোর বিজ্ঞানীদের মুক্ত করা। ফলস্বরূপ, তাঁরা গগনযান (Gaganyaan), নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন (Bharatiya Antariksh Station) নির্মাণ, চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং গভীর মহাকাশ গবেষণার মতো আরও উদ্ভাবনী ও উন্নত ক্ষেত্রগুলিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন।

নাসার মতোই কি ভারতের ভবিষ্যত?

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা যেভাবে স্পেসএক্সের মতো বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করে, ভারতও ঠিক সেই মডেলেই এগোচ্ছে। বর্তমান লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী দিনে ভারতের বছরে প্রায় ৫০টি উৎক্ষেপণ যানের প্রয়োজন হতে পারে। এত বিশাল পরিমাণ রকেট শুধু ইসরোর পক্ষে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি স্টার্টআপগুলিকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী মহাকাশ ইকোসিস্টেম তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ইসরোর এই রূপান্তর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এবং সংস্থার অন্দরে কিছু প্রশ্ন উঠলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের বিশাল মহাকাশ লক্ষ্য পূরণের জন্য এই সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। রকেট উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে যেমন খরচ কমবে, তেমনই দেশের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *