বহুদিনের পুরোনো বন্ধুকে হঠাৎ সামনে পেয়েও কথা বলতে ভয় হয় কেন? জানুন এর পেছনের আসল মনস্তত্ত্ব!

স্কুল বা কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের দৌড়ে এগোতে গিয়ে বহু পুরোনো বন্ধু কখন যে হারিয়ে যায়, তার হিসাব রাখা কঠিন। তবে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা লিংকডইনের সুবাদে সেই পুরোনো চেনা মুখগুলোকে খুঁজে পাওয়া এখন জলভাত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বহু বছর পর কোনো পুরোনো বন্ধুকে অনলাইনে বা সামনাসামনি খুঁজে পাওয়ার পরেও অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে একধরণের অদৃশ্য দ্বিধা বা সংকোচ বোধ করেন। হাত বাড়িয়েও যেন মেসেজ বা কল করার সাহস হয় না। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এতদিনের পুরনো সম্পর্ক থাকার পরেও কেন এই হীনমন্যতা বা দূরত্ব কাজ করে?

মনোবিদ ও সম্পর্ক গবেষকদের মতে, এই দ্বিধার পেছনে রয়েছে গভীর কিছু মানসিক এবং সামাজিক কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কারণগুলি:

জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ব্যবধান: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পেশা, সামাজিক অবস্থান এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আসে। অনেকের অবচেতন মনে এই ভয় কাজ করে যে, হয়তো পুরোনো বন্ধুটি এখন অনেক বেশি সফল বা তাঁর লাইফস্টাইল অনেক আলাদা, যার ফলে তাঁদের সঙ্গে আর আগের মতো মানিয়ে নেওয়া যাবে না।

প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় (Fear of Rejection): অনেকেরই মনে এই আশঙ্কা থাকে যে, দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকার কারণে হয়তো সেই বন্ধুটি আর আগের মতো উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন না কিংবা মেসেজের উত্তরই দেবেন না। এই ‘ইগো’ বা সম্মানহানির ভয় অনেককেই বন্ধুত্বের দিকে ফের হাত বাড়াতে বাধা দেয়।

‘সবকিছু কি আগের মতো আছে?’ এই প্রশ্ন: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এত বছর কেটে যাওয়ার কারণে দুজনেই মানসিকভাবে অনেক বদলে গেছেন। অতীতের সেই নস্ট্যালজিয়া বর্তমান বাস্তবের সঙ্গে মিলবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাও বড় একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোটখাটো মানসিক জড়তা কাটিয়ে যদি একটুখানি উদ্যোগ নেওয়া যায়, তবে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো সোনালী দিনগুলোকে আবারও বর্তমানের পাতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পুরোনো স্মৃতির বরফ গলাতে একটিমাত্র ছোট হ্যালো-ই যথেষ্ট হতে পারে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *