বাবাকে পাশে না পেয়ে বড় হয়েছে মাসাবা! মেয়ের কাছে ঠিক কী অপরাধ স্বীকার করলেন নীনা গুপ্তা?

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই অত্যন্ত খোলামেলা অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা (Neena Gupta)। তবে এবার মেয়ে মাসাবা গুপ্তার শৈশব, একা বড় হয়ে ওঠার সংগ্রাম এবং বাবা ভিভিয়ান রিচার্ডসের অনুপস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। নীনা জানিয়েছেন, শৈশবে বাবাকে পাশে না পেয়েই মাসাবাকে বড় হতে হয়েছে। আর এর সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে মেয়ের কাছে বহুবার ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নীনা বলেন, “আমি ওর সঙ্গে এতটাই সৎ যে বহুবার বলেছি, ছোটবেলায় তুমি বাবাকে পাশে পাওনি—এর জন্য আমি দুঃখিত। এটা আমারই ভুল। তবে মাসাবা বিষয়টি খুব পরিপক্বভাবে বোঝে।” অভিনেত্রীর মতে, অল্প বয়সে মানুষ অনেক সময় এমন কিছু আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেয়, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব তখন বোঝা সম্ভব হয় না। বাবা-মায়ের বারণ বা পরামর্শও সেই বয়সে অনেকেই মানতে চান না। জীবনের পথ চলতে চলতে অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই সেই বোধ তৈরি হয়।

বাবার পরিচয় নিয়ে মেয়ের কাছে কিছুই গোপন করেননি নীনা

মাসাবা যাতে কোনোদিন বাইরের মানুষের কাছ থেকে তাঁর বাবা সম্পর্কে ভুল তথ্য বা কুরুচিকর কথা না শোনেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন নীনা। মেয়ের বয়স এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে জীবনের সমস্ত সত্য নিজেই জানিয়েছেন তিনি। মাসাবার কচি মনে যাতে বাবা বা মায়ের বিরুদ্ধে কোনো রাগ, অভিমান কিংবা তিক্ততা তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।

বাবার অনুপস্থিতির কথা জানানোর পাশাপাশি ভিভিয়ানকে সম্মান করতে এবং ভালোবাসতেও শিখিয়েছিলেন তিনি। নীনার কথায়, “আমি ওকে সবসময় বাবাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছি। ও বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কেন আমরা আলাদা হয়েছিলাম, সবটাই স্বচ্ছ্বভাবে বলেছি। তাই আমার প্রতি ওর মনে কোনো ক্ষোভ জন্ম নেয়নি। বাইরের কারও মুখ থেকে শোনার চেয়ে আমার কাছ থেকেই সত্যিটা জানা ভালো—এটাই আমি চেয়েছিলাম।”

নীনা ও ভিভিয়ানের অতীতের সমীকরণ

উল্লেখ্য, নীনা গুপ্তা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের মেয়ে মাসাবার জন্ম ১৯৮৯ সালে। সেই সময়ে বিবাহিত ছিলেন ভিভিয়ান। নিজেদের সম্পর্ক এবং মাসাবার জন্মের সেই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন নীনা।

নিজের আত্মজীবনী ‘সচ কহুঁ তো’-তে নীনা লিখেছিলেন, ভিভিয়ানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। ততদিনে দেশ ছেড়ে নিজের দেশে ফিরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। নীনা তাঁকে সরাসরি ফোন করে প্রশ্ন করেছিলেন, সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্তে তাঁর কোনো আপত্তি আছে কি না। জবাবে ভিভিয়ান তাঁকে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন। এরপর বেশ কিছুদিন তাঁদের সম্পর্ক টিকে থাকলেও, দু’জন আলাদা মহাদেশে ও দেশে থাকায় সেই সম্পর্ক মূলত দূরত্বের মাধ্যমেই এগিয়েছিল। নীনা নিজেও তাঁদের সেই অধ্যায়কে এক অপ্রচলিত ও ভিন্নধর্মী সম্পর্ক বলে বর্ণনা করেছেন।

নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত মাসাবা

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক মেহরাকে বিয়ে করেন নীনা গুপ্তা। অন্যদিকে, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাসাবা আজ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলার পাশাপাশি অভিনয়েও সফলভাবে পা রেখেছেন। ২০২৩ সালে অভিনেতা সত্যদীপ মিশ্রের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাসাবা। সেই হাই-প্রোফাইল বিয়েতে নীনা ও ভিভিয়ান—দু’জনেই উপস্থিত থেকে মেয়ের নতুন জীবনকে আশীর্বাদ করেছিলেন।

পেশাগত জীবনেও নীনা সমান সক্রিয়। সম্প্রতি তাঁকে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ ‘চুম্বক’-এ দেখা গিয়েছে। কাল্পনিক চুম্বক কলোনির পাঁচটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নানা কৌতূহলোদ্দীপক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সিরিজটি দর্শকদের নজর কেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *