বাঁকুড়ার বুকে লুকিয়ে থাকা এক টুকরো স্বর্গ! জলের ধারে অচেনা পাহাড়ে উইকেন্ড কাটানোর দারুণ ঠিকানায় উপচে পড়া ভিড়

বাঁকুড়া জেলার নাম শুনলেই সাধারণত পর্যটকদের মাথায় খাতড়া, ছাতনা, জঙ্গলমহল কিংবা ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুরের নামই সবার আগে আসে। ট্যুরিজমের মানচিত্রে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকটি খুব একটা পরিচিত না হলেও, যাঁরা একটু শান্ত ও অচেনা জায়গার খোঁজ করেন, তাঁদের জন্য এই স্থানটি এক পরম বিস্ময়। বাঁকুড়া শহর থেকে হেবির মোড় হয়ে মেজিয়ার রাস্তা ধরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার এগোলেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই গঙ্গাজলঘাটিতে। জল, পাহাড় এবং সুপ্রাচীন ইতিহাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন লুকিয়ে রয়েছে এই ব্লকের অন্দরে। বিশেষ করে বর্ষার দিনে প্রকৃতির এক জাদুকরি রূপ দেখতে এখানে একবার আসতেই হবে।
রাজা মেলা গ্রামের অচেনা পাহাড় ও ‘মা নাচন চণ্ডী’
গঙ্গাজলঘাটিতে প্রবেশ করার পর লক্ষণপুর রোড ধরে সটান ১১ কিলোমিটার গেলে দেখা মিলবে ‘রাজা মেলা’ গ্রামের। এই গ্রামের ঠিক অন্দরেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক নাম না জানা, অচেনা পাহাড়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো এক রূপকথার সবুজ গালিচায় ঢাকা ছোট টিলা। এই টিলার পাশেই রয়েছে একটি সুবিশাল প্রবেশদ্বার, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে খোদাই করা রয়েছে—‘মা নাচন চণ্ডী পাহাড়’।
পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ওপর পর্যন্ত উঠে গেছে সুন্দর বাঁধানো সিঁড়ি, যার দুই পাশ ঘিরে রয়েছে মনোরম ঘন জঙ্গল। সব মিলিয়ে এই পরিবেশ এক মায়াবী আবহ তৈরি করে। পাহাড়ের গায়ে রয়েছে দুটি মন্দির—একটি প্রাচীন মা নাচন চণ্ডী মন্দির এবং অন্যটি সদ্যনির্মিত একটি বিষ্ণু মন্দির। সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে ওপরে উঠলে চোখে পড়বে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এক অদ্ভুত সমতল ভ্যালি। সেখান থেকে একটু এগোলেই পাথরের ছোট রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় পাহাড়ের একেবারে চূড়ায়। যেখান থেকে দূরের দিগন্ত এবং বিকেলের চোখজুড়ানো সূর্যাস্ত দেখার আনন্দই আলাদা। বর্ষার মরশুমে এই এলাকার প্রকৃতি যেন এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ ধারণ করে।
থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা ও ভ্রমণের মোক্ষম সময়
পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পাহাড়ের ঠিক নীচেই রয়েছে উন্নত মানের থাকা এবং খাওয়ার সুব্যবস্থা। বিশেষ করে ‘মা নাচন চণ্ডি অতিথি নিবাস’-এ পর্যটকরা খুব সহজেই রাত্রিযাপন করতে পারেন। সুতরাং, আর দেরি না করে পুজোর ছুটি বা উইকেন্ডে ব্যাগপত্র গুছিয়ে ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতে। এই মনসুন স্টাইলের ট্রিপ আপনার ক্লান্তি দূর করে মনে এনে দেবে এক অনাবিল প্রশান্তি।