গঙ্গার গ্রাসে মালদার রতুয়া হাসপাতাল! কারেন্ট নেই, চতুর্দিকে জল… তবুও স্থান ত্যাগ না করে ডিউটিতে অনড় চিকিৎসকেরা

বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। জলে ভেসেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। কিন্তু সেই প্লাবনের জলের তোড় এবার ঢুকে পড়ল সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে। মালদা জেলার রতুয়া-১ ব্লকের রতুয়া ব্লক হাসপাতালের প্রায় ৪০ শতাংশ অংশই এখন জলের তলায়। তবে চারপাশের এমন চরম দুর্যোগের মধ্যেও কর্তব্যে অটল থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

হাসপাতালের ভেতরে হাঁটু সমান জল। সেই থৈ থৈ নোংরা জলের মধ্যেই দাঁড়িয়ে টানা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন ডাঃ অরিজিৎ ও তাঁর সহকর্মী স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিচ্ছিন্ন মূল ভূখণ্ড, নৌকাই একমাত্র ভরসা

গঙ্গার জল হু হু করে বাড়তে থাকায় রতুয়া ব্লক হাসপাতালটি যেন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

  • বিদ্যুৎহীন অন্ধকার: পুরো ব্লক এলাকা জলমগ্ন হওয়ার কারণে হাসপাতালে দিনকয়েক ধরে কোনো বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই।

  • সাপ ও বিষাক্ত পোকার উপদ্রব: হাসপাতালের করিডরে ও ওয়ার্ডে হাঁটু জলের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিষধর সাপ এবং বিপজ্জনক জলজ পোকামাকড়।

  • যাতায়াতের মাধ্যম: সাধারণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় রোগী ও চিকিৎসকদের একমাত্র ভরসা এখন দেশি নৌকা।

“রোগীদের ফেলে পালিয়ে যেতে পারি না!”

হাসপাতালের এমন প্রতিকূল ও ভয়াবহ পরিবেশ সত্ত্বেও ডিউটি ছেড়ে যেতে নারাজ ডাঃ অরিজিৎ। হাঁটু জল ঠেলেই তিনি ও চিকিৎসাকর্মীরা এক কেবিন থেকে অন্য কেবিনে হেঁটে গিয়ে রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন এবং সেবা করছেন।

ডাঃ অরিজিৎ জানান, “পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এই দুর্যোগের সময়ই মানুষের আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। করিডরে সাপ ঘুরুক কিংবা আলো না থাক, রোগীদের এই অবস্থায় একা ফেলে আমরা চলে যেতে পারি না। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

স্বস্তি নেটিজেনদের, চর্চায় মানবিকতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে ডাঃ অরিজিতের চিকিৎসা করার সেই ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নেটদুনিয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা সকলেই এই দুর্যোগের দিনে চিকিৎসকদের এই ত্যাগ ও মানসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে জল নিষ্কাশন ও বিকল্প ব্যবস্থার দাবি উঠলেও, জলমগ্ন পরিবেশেই নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এই ‘হোয়াইট কোট’ যোদ্ধারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *