নয়াদিল্লিতে ব্রিকস মঞ্চ থেকেই পশ্চিমকে কড়া বার্তা! শি জিনপিংয়ের ৫ মেগা পয়েন্টে তোলপাড় আন্তর্জাতিক কূটনীতি

ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ব্রিকস ২০১৬’ (BRICS 2026) সম্মেলনের শেষ দিনে উন্নয়নশীল ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলির সংগঠন ‘গ্লোবাল সাউথ’কে (Global South) আরও শক্তিশালী করার জোরালো আহ্বান জানালেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নাম না করে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব ও নীতিকে কটাক্ষ করে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন ও বিশ্ব পরিচালনায় সব দেশের সমান অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি।

“সিগন্যালহীন রাস্তার মতোই বিপজ্জনক আইনহীন পৃথিবী”

ব্রিকসের ভাষণ চলাকালীন বিশ্ব ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে চিনা প্রধান বলেন, “সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতি ছাড়া এই পৃথিবীর পরিস্থিতি ঠিক সিগন্যালহীন রাস্তার মতো। তেমন এক জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অসম্ভব এবং কোনো দেশই সেখানে প্রকৃত ন্যায়বিচার আশা করতে পারে না।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো দেশের ভৌগোলিক আয়তন বা সম্পদ দেখে নয়, বরং প্রতিটি দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমান মর্যাদা দিতে হবে। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকেই বিশ্ব দরবারে এগিয়ে আসতে হবে।

পশ্চিমা বিশ্বকে পরোক্ষ কটাক্ষ ও দুই প্রধান মন্তব্য

ভাষণের এক পর্যায়ে বিশ্ব কূটনীতির নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দুটি মন্তব্য করেন জিনপিং:

  • অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়: আন্তর্জাতিক আইন এমন হওয়া উচিত যেখানে এক দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

  • দুমুখো অবস্থানের অবসান: কোনো দেশ যেন আন্তর্জাতিক নিয়মের ক্ষেত্রে ‘দুমুখো নীতি’ বা দ্বিমুখী আচরণ না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে বাকি দেশগুলিকে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি মন্তব্যের মাধ্যমে সরাসরি আমেরিকা ও পশ্চিমি জোটকেই নিশানা করেছেন চিনা রাষ্ট্রপতি।

সহযোগিতা বাড়াতে জিনপিংয়ের ‘৫-পয়েন্ট ফর্মুলা’:

ব্রিকস রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন ঘটানোর জন্য পাঁচটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট পেশ করেছেন তিনি:

১. নিজস্ব এআই পরিকাঠামো: ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলির জন্য নিরাপদ ও যৌথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কাঠামো নির্মাণ।

২. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ: সদস্য দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সরলীকরণ।

৩. ডিজিটাল শিল্প সংযোগ: প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি।

৪. উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ: সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদন খাতকে (Manufacturing Sector) আরও নিপুণ করা।

৫. যৌথ প্রযুক্তি গবেষণা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনে একসঙ্গে কাজ করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *