চাকরি ও বিনিয়োগে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলা! রাজ্যে নতুন শিল্প বিপ্লবের ব্লু-প্রিন্ট ঘোষণা সরকারের

রাইজিং ভারত সামিটের মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। আগামী পাঁচ বছরের এক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলা আবার তার সোনালী দিনে ফিরবে। শুধু বড় শিল্প বা আইটি সেক্টরই নয়, জেলা স্তরে শিল্পের বিকাশ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে দাবি করেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে শিল্পমন্ত্রী জানান, গত কয়েক মাসে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে মানুষের যে ক্ষোভ ছিল, তা দূর করতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরকে। তাপস রায়ের আক্ষেপ, অন্যান্য রাজ্যের অগ্রগতি দেখে অনেক সময় তুলনামূলক ভাবনা আসে, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ সহযোগিতায় বাংলার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
শিল্প প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা যে জমি নীতি, সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন মন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বর্ধমান— রাজ্যের সমস্ত জেলায় শিল্পের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। যেসব জমি এতদিন অব্যবহৃত পড়ে ছিল বা আইনি জট ছিল, সেগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত শিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই শিল্প নীতির বড়সড় পরিবর্তনের ফল সাধারণ মানুষ দেখতে পাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
আইটি সেক্টরের পাশপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদার বিখ্যাত আম সহ অন্যান্য কৃষিপণ্য যাতে বাইরের রাজ্যে সহজেই রপ্তানি করা যায়, তার জন্য ফুড পার্ক ডেভেলপ করা হচ্ছে। ভিনরাজ্যে বাংলার খাবারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যাকে কাজে লাগিয়ে বড় বাজার ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কেন্দ্রের সাহায্য নিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত করতে এবং বহু মানুষকে ফের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন।