ব্রিকসে ঢুকতে মরিয়া পাকিস্তান! তিন বছর ধরে পড়ে থাকা আবেদন এখনও আটকে কার আপত্তিতে?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকস (BRICS)-এ যোগদানের সমস্ত চেষ্টা চালিয়েও এখনও পর্যন্ত সাফল্য পেল না পাকিস্তান। প্রায় তিন বছর আগে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এই জোটে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল ইসলামাবাদ। তবে বর্তমান সম্প্রসারিত কাঠামোর জোটে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি স্থান পেলেও, পাকিস্তানের সেই আবেদন এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি আটকে রয়েছে।
কেন ব্রিকসে ঢুকতে চাইছে পাকিস্তান?
পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই আবেদনের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৩.৭ শতাংশের ঘরে থাকার কারণে ব্রিকসের মতো শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোটে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে তারা। এমনকি ব্রিকস সমর্থিত ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’-এ প্রায় ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ওপর থেকে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টাও চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।
চিন-রাশিয়ার সমর্থন সত্ত্বেও কেন আটকে রয়েছে আবেদন?
পাকিস্তান শুরু থেকেই এই জোটে যোগ দিতে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে ব্রিকসের নিয়মানুযায়ী, নতুন কোনো দেশকে পূর্ণ সদস্য করতে হলে বর্তমান সমস্ত সদস্য দেশের সুনির্দিষ্ট সম্মতির প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশ আপত্তি জানালেই নতুন সদস্যের প্রবেশ আটকে যাওয়ার বিধান রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের এই সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অনমনীয় অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাশিয়া ও চিনের সায় থাকলেও ভারতের সম্মতি না মেলায় ইসলামাবাদের আবেদন আজও এগোতে পারেনি।
ব্রিকস জোটের বর্তমান বৈশ্বিক গুরুত্ব:
সাম্প্রতিক সম্প্রসারণের পর ব্রিকস কেবল কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব এখন সুদূরপ্রসারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। পাশাপাশি পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (PPP) বা ক্রয়ক্ষমতার সাম্যতার বিচারে বিশ্ব জিডিপি-র প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এই জোট। ফলে এমন একটি প্রভাবশালী মঞ্চে জায়গা পাওয়া পাকিস্তানের কাছে যেমন বড় কূটনৈতিক লক্ষ্য, তেমনই ভারতের আপত্তির মুখে সেই পথ যে অত্যন্ত কন্টকাকীর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।