ভাগলপুর-পাটনা মহাসড়কে বইছে দুই ফুট জল! জলের তোড়ে বড় বিপদে কোন কোন জেলা?

বিহারে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। রাজ্যের ১২টিরও বেশি জেলা বর্তমানে জলের তলায়। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভাগলপুরের। সেখানকার প্রায় ৯০টিরও বেশি পঞ্চায়েতের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও বন্যার জল ঢুকে পড়েছে।
জলের নিচে জাতীয় সড়ক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একাধিক রুট
নাথগরের ভবনাথপুরের কাছে ব্যস্ততম ভাগলপুর-পাটনা মূল রাস্তা (NH-80)-র ওপর দিয়ে বইছে প্রায় দুই ফুট জলের স্রোত। এর জেরে গত পাঁচ দিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনএইচ-৮০-র দু’ধারে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে।
পাশাপাশি, গঙ্গার জলস্তর সামান্য কমলেও মানুষের দুর্ভোগ একরত্তিও কমেনি। বন্যা এবার থাবা বসিয়েছে মুঙ্গের-মির্জাচৌকি নতুন ফোরলেনেও। ভাগলপুর বাইপাস থেকে শাহকুণ্ডগামী নতুন রাস্তার ওপর জল উঠে যাওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যাতায়াত। যানবাহন চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে।
প্রশাসনের সতর্কতা ও সাধারণ মানুষের দুর্দশা
প্রধান রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ভাগলপুরের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন যাত্রী থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে জলমগ্ন জনপদ, অন্যদিকে প্রধান রাস্তাগুলো জলের তলায় চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জলমগ্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলোতে যাতায়াত করার সময় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বর্তমানে নদীগুলোর জলস্তর কমার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কারণ একমাত্র জলস্তর নামলেই এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে।
সম্পাদকের নোট: বিহারে এই ভয়াবহ জলবন্দি পরিস্থিতি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই থমকে দেয়নি, বরং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।