পুজো শেষেই মূর্তি পরিণত হবে সবুজ গাছে! গণেশ চতুর্থীতে জবলপুরের এই অভিনব উদ্যোগ ভাইরাল নেটদুনিয়ায়

ণেশ উৎসবের সময় বাড়িতে গণপতি প্রতিমা স্থাপন ও তা মহাসমারোহে বিসর্জন দেওয়া আমাদের দীর্ঘদিনের প্রথা। কিন্তু বিসর্জনের পর সেই পবিত্র মূর্তিটি যদি জলে নষ্ট না হয়ে একটি সবুজ চারাগাছ হিসেবে আবার আপনার ঘরে ফিরে আসে, তবে কেমন হয়? ঠিক এমনই এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা রাই স্বামী। ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার এমন এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে গিয়ে তিনি বিসর্জন দিয়েছেন নিজের ১২ বছরের বিলাসবহুল কর্পোরেট জীবনকেও।

পুনে থেকে অ্যাপারেল প্রোডাকশন এবং ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর প্রিয়াঙ্কা দীর্ঘ ছয় বছর মুম্বাইতে এবং আরও ছয় বছর দুবাইয়ে অত্যন্ত সফলভাবে কর্পোরেট চাকরি করেছেন। কিন্তু প্রকৃতি ও মাটির কাছাকাছি কিছু করার সুপ্ত বাসনা তাঁকে চিরচেনা সেই রুটিন জীবন থেকে বের করে আনে। ২০২০ সালে কোভিড মহামারী চলাকালীন মানুষের মধ্যে যখন ঈশ্বরভক্তি ও হাহাকার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই তাঁর মাথায় আসে এক ব্যতিক্রমী ভাবনা। তিনি বাড়িতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মাটি দিয়ে গণেশ মূর্তি তৈরি করা শুরু করেন এবং পরীক্ষার জন্য সেই মাটির ভেতরেই বিভিন্ন গাছ, ফুল ও সবজির বীজ বুনে দেন। পুজো শেষে সেই মূর্তি বাড়িতেই বিসর্জন দেওয়ার পর আশ্চর্যের বিষয়, তা থেকে সগর্বে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে সবুজ চারাগাছ।

এই অভিনব প্রচেষ্টার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গঠন। মূর্তিগুলি তৈরিতে কোনো ধরনের প্লাস্টিক, থার্মোকল, কৃত্রিম রত্ন বা ক্ষতিকারক লেস ব্যবহার করা হয় না। বরং সম্পূর্ণ মাটি এবং ঐতিহ্যবাহী গেরুয়া রঙের পাশাপাশি এই বছর তিনি গোবর, গোমূত্র, দুধ, দই ও ঘিয়ের মতো পবিত্র উপাদান দিয়ে তৈরি ‘পঞ্চগব্য গণেশ’-এরও সূচনা করেছেন। বিসর্জনের সময় জলে দেওয়ার মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে এই মূর্তিগুলি সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে মাটিতে মিশে যায়। এরপর সেই মাটি ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে মিশিয়ে দিলেই বীজ থেকে গাছ গজিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

গ্রাহকদের জন্য সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ভিডিওর মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন প্রিয়াঙ্কা, যাতে প্রত্যেকেই পূজার পর প্রতিমাটিকে বাড়ির টবে বা বাগানে গাছে রূপ দিতে পারেন। ১২ বছরের কর্পোরেট কেরিয়ারকে বিদায় জানিয়ে শুরু করা এই ছোট্ট উদ্যোগ আজ বহু মানুষের মন জয় করেছে। উৎসবের আনন্দে গা ভাসানোর পাশাপাশি প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার যে বার্তা প্রিয়াঙ্কা দিচ্ছেন, তা বর্তমান সময়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *