ফাঁকা ঘরেই লাখ টাকার খনি! ছাদ বা জমির দরকার নেই, বাড়ির এই কোণেই শুরু করুন মাশরুম চাষ

চাষের জমি কিংবা খোলা মাঠ—মাশরুম চাষের জন্য এগুলির কোনওটিই আর বাধ্যতামূলক নয়। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত ঘরকেই সোনা ফলানোর মাধ্যম বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মালদার সাহাপুর পাবনাপাড়ার বাসিন্দা সোনাই হালদার। অতিরিক্ত রোদ কিংবা ঝক্কিঝামেলার বালাই না থাকায় সারা বছরই এই লাভজনক চাষ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে প্রমাণ করেছেন তিনি। জেলার অন্যতম সফল বাণিজ্যিক মাশরুম চাষি হিসেবে ইতিমধ্যেই বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন সোনাই।
প্রায় ১৩ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় অস্থায়ী কাজের পাশাপাশি নিজের বাড়ির ফাঁকা জায়গায় প্রায় ২০০টি বিশেষ সিলিন্ডার তৈরি করে চলছে এই চাষ। ধানের খড়, মাটি ও মাশরুমের উন্নত বীজ দিয়ে এই সিলিন্ডারগুলো তৈরি করা হয়। মূলত মিল্কি এবং অয়েস্টার—এই দুই লাভজনক প্রজাতির মাশরুম চাষ করছেন তিনি। ঋতু পরিবর্তন অনুযায়ী গ্রীষ্মকালে মিল্কি এবং শীতের মরশুমে অয়েস্টার মাশরুমের বাম্পার ফলন পাওয়া যায়।
বাজারের চাহিদা ও প্রজাতি ভেদে প্রতি কেজি মাশরুম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সোনাইয়ের দাবি, সমস্ত খরচ বাদ দিয়েও মাশরুম বিক্রি করে তাঁর প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। এই বিষয়ে সোনাই হালদার বলেন, “গত প্রায় ১৩ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করছি। অনেকেই এখন আমার কাছে এই চাষ শিখতে আসেন। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় এর চাহিদা তুঙ্গে। অন্যান্য সনাতনি চাষের পাশাপাশি বিকল্প বা অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে যে কেউ এই চাষ শুরু করতে পারেন।”
অন্যদিকে, মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, “জেলায় মাশরুম চাষের প্রসারে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শুধু ঘর নয়, বাড়ির বারান্দা বা বেলকনিতেও এই চাষ করা সম্ভব। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাদ্যের বাজারে চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে জেলার সাধারণ চাষি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও এই পেশার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদল করতে পারবেন।”