৮৫ কোটির ব্যাংক জালিয়াতি! সিএ-র জাল রিপোর্টের ফাঁদ পেরিয়ে এবার ৯ জায়গায় ইডি-র মেগা হানা

ব্যাংক জালিয়াতি এবং আর্থিক দুর্নীতির এক চাঞ্চল্যকর মামলায় কড়া পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আজ, ১১ সেপ্টেম্বর পিএমএলএ (PMLA)-র ১৭ ধারা অনুযায়ী মোট ৯টি ভিন্ন ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন ইডি-র পটনা জোনের আধিকারিকরা। এই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রামনন্দী হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (RHRL), গয়া নামের একটি সংস্থা।

জালিয়াতি ও তহবিল তছরুপের আসল রহস্য
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, এই সংস্থাটি মূলত আখौरी গোপাল এবং তাঁর দুই ছেলে निशांत (নিশান্ত) ও নিদেশ দ্বারা পরিচালিত হয়। ব্যাংকগুলির একটি কনসোর্টিয়াম থেকে এই কোম্পানিকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ঋণ বা লোন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে—এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মধ্যে থেকে প্রায় ৫৮ কোটি টাকাই সম্পূর্ণ অন্য খাতে ডাইভার্ট বা তছরুপ করা হয়েছে।

ইডি-র দাবি, কোম্পানির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)-এর দেওয়া সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল প্রোজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই ঋণ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। লোন মঞ্জুরের বিপরীতে ঋণগ্রহীতারা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিলেও পরবর্তী সময়ে তা আত্মসাতের ছক কষা হয়।

বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি ও বেওয়ারিশ ক্রেতার রহস্য
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ব্যাংক ঋণের সিকিউরিটি হিসেবে টাটা মোটরস লিমিটেডের পক্ষে মোট ৫টি সম্পত্তি মর্টগেজ বা বন্ধকি রাখা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই সমস্ত বন্ধকি সম্পত্তি বেআইনিভাবে সম্প্রতি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ইডি-র প্রবল সন্দেহ, এই সম্পত্তিগুলির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দাম দেখিয়ে তা বিক্রি করা হয়েছে এবং লেনদেনের বিশাল অঙ্কের টাকা কাগজে-কলমে ক্যাশ রিসিট হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তদন্তে এমন কিছু ক্রেতার সন্ধান মিলেছে যাঁরা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল এবং এত বড় অঙ্কের সম্পত্তি কেনার কোনো আর্থিক সামর্থ্যই তাঁদের নেই। ফলে ইডি-র জোরালো আশঙ্কা, এই ক্রেতারা আদতে মূল অভিযুক্ত আখौरी গোপালের কোনো বেনামি বা প্রক্সি মুখ মাত্র। মূলত তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে সম্পত্তি বাঁচাতেই তাড়াহুড়ো করে এই বেআইনি হাতবদল করা হয়েছিল।

কোথায় কোথায় চলছে এই অভিযান?
সিবিআই-এর পেশ করা চার্জশিট অনুযায়ী, এই অপরাধমূলক আর্থিক কেলেঙ্কারির মোট পরিমাণ প্রায় ১৩১.৭৯ কোটি টাকা, যা বর্তমানে নন-পারফর্মিং অ্যাসেট বা এনপিএ (NPA) হিসেবে চিহ্নিত। আজ ইডি-র বিশেষ দল যে ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে:

বিহারের গয়া: ৬টি ঠিকানা

হরিয়ানার গুরুগ্রাম: ২টি ঠিকানা

নতুন দিল্লি: ১টি ঠিকানা

বর্তমানে এই সমস্ত ঠিকানায় নথিপত্র, সম্পত্তির দলিল এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই মেগা অভিযানের জেরে আর্থিক মহল ও অভিযুক্ত মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *