‘বেতন পাচ্ছেন কাজ না করার জন্য নয়…’, পুরসভাকে তুলোধোনা করে সিবিআইকে কিসের প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?

কলকাতা শহর জুড়ে রমরমিয়ে চলা বেআইনি নির্মাণ এবং তার আড়ালে থাকা কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ এই চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিয়েছে। বালিগঞ্জ, বেলেঘাটা, মানিকতলা, রাজাবাজার ও ক্যানেল ইস্ট রোড সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ন্যূনতম কোনো আইনি অনুমতি ছাড়াই ৫০টিরও বেশি বহুতল তৈরি করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু অবৈধ নির্মাণই নয়, এই মামলার নেপথ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া, কালো টাকা সাদা করা (Money Laundering) এবং বেআইনি বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরের মতো অত্যন্ত মারাত্মক সব অভিযোগও আনা হয়েছে।

পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রধান বিচারপতির তীব্র ক্ষোভ
এদিন মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে, কেন এতদিন প্রশাসন বা পুরসভার পক্ষ থেকে কোনো স্বতঃপ্রণোদিত অনুসন্ধান করা হলো না? কারণ এই ধরনের বেআইনি কাজ রোধ করার দায়িত্ব পুরসভা বা রাজ্যেরই। অথচ শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণ দেদার চলতেই থেকেছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরনিগমের (KMC) তরফ থেকে আদালতে জানানো হয় যে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে চায়।

পুরসভার এই উত্তরে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, “পুরকর্মী ও আধিকারিকরা বেতন পাচ্ছেন কাজ করার জন্য, কাজ না করার জন্য নয়।” পুরসভা কেন এতদিন কোনো আগাম পদক্ষেপ করল না এবং আদালতে অহেতুক সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি প্রয়োজনে খোদ পুরকমিশনারকে আদালতে তলব করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কালো টাকার লগ্নি ও সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্ত
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, চিহ্নিত ৪২টি সহ একাধিক এই বেআইনি বহুতলগুলির আসল মালিক বা প্রবক্তা কে কিংবা এর পিছনে কারা বিশাল অঙ্কের টাকা লগ্নি করেছে, তার কোনো স্পষ্ট আইনি নথি নেই। ন্যূনতম কোনো সরকারি অনুমতি না নিয়েই এই বহুতলগুলি তৈরি হয়েছে, যার নেপথ্যে বিশাল অঙ্কের কালো টাকা সাদা করার গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে এই ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রয়োজনে সিবিআই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করতে পারবে। রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সিবিআইকে এই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী ১৪ই অক্টোবরের মধ্যে সিবিআই-কে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *