১২ বছরে উল্টো পুরাণ! এককালের ‘দুর্বল’ ভারতই এখন ব্রিকসের মধ্যমণি, দিল্লির মেগা সম্মেলনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচছে বিশ্ব

২০১২ সালের পর ২০২৬—পনেরো বছরের দীর্ঘ ব্যবধানে ফের ভারতে বসতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের আসর। তবে এই দেড় দশকে কেবল সময় বদলায়নি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান, আর্থিক শক্তি এবং বিশ্বজোড়া গ্রহণযোগ্যতাও পৌঁছে গেছে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায়। এককালে যে ভারতের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও জিডিপি গ্রাফ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল খোদ আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থারা, আজ সেই ভারতই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রযুক্তির জোরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
১২ বছর আগের সেই সংশয় ও সমালোচনার দিনগুলি
আজ থেকে চৌদ্দ বছর আগে, ২০১২ সালে যখন ভারত ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করেছিল, তখন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ছিল বেশ নড়বড়ে। শ্লথ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং নীতিগত পঙ্গুত্বের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল দেশকে। এমনকি ব্রিকস নামের ‘I’ অক্ষরটি অর্থাৎ ‘ইন্ডিয়া’-র অন্তর্ভুক্তি নিয়েও নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেক সমালোচক প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতের বদলে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশকে এই জোটে রাখা উচিত কি না। বাকি সদস্য দেশগুলির তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক দুর্বলতা তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সে সময় প্রখ্যাত রেটিং এজেন্সি ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস’ (Standard & Poor’s) সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, প্রথম ব্রিকস সদস্য হিসেবে ভারত তার ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড হারাতে পারে। ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে দেশের অর্থনীতির গ্রাফ হু হু করে নিচে নামায় বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল নয়াদিল্লি।
২০২৬-এর চিত্র: বদলে যাওয়া ভারতের অপ্রতিরোধ্য গতি
তবে সময় বদলেছে সম্পূর্ণভাবে। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের অর্থনৈতিক ছবিটা একশো আশি ডিগ্রি আলাদা। বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছুঁয়েছে ৭.৮ শতাংশ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতির গতিতে পতনের বা ঝুঁকির কোনো আশঙ্কাই নেই। সাম্প্রতিককালে জাপানি রেটিং এজেন্সির মূল্যায়নে ভারতের সার্বভৌম রেটিং (Sovereign Rating) উন্নত হয়ে আরও শক্তপোক্ত জায়গায় পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে ভারতের অর্থনীতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং ঝড়-ঝাপটা সামলাতে সক্ষম।
বিশ্বনেতাদের ভিড় ও ভারতের নতুন আন্তর্জাতিক কদর
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানী দিল্লিতে বসছে ব্রিকসের এই মেগা সামিট। এই সম্মেলনে যোগ দিতে একে একে ভারতে এসে উপস্থিত হচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মতো বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতারা।
অতীতে যেখানে ভারতকে ব্রিকসের ‘সবচেয়ে দুর্বল কড়ি’ হিসেবে দেখা হতো, আজ ২০২৬-এ সেই একই মঞ্চে ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং চালকের আসনে থাকা এক অবস্থান থেকে অংশ নিচ্ছে। দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, বিশ্বজোড়া গ্রহণযোগ্যতা, লাফিয়ে বাড়তে থাকা উৎপাদন ক্ষমতা এবং যুগান্তকারী ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার আজ ভারতকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতির মানচিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। এককালের সংশয়কে দূরে সরিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারত আজ নিজেই এক উদীয়মান পরাশক্তির নাম।