পঁচিশেই মাথায় খালি জায়গা! পারফেক্ট লুকের চক্করে তরুণ প্রজন্মের এই মারাত্মক ভুল জীবন শেষ করে দিচ্ছে না তো?

চুল পড়া এককালে বার্ধক্যের লক্ষণ হলেও বর্তমান সময়ে তা ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও এক নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চুল পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে জেন জি প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা হেয়ারলাইন পেছনের দিকে সরে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগে দলে দলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এর পেছনে মূল দুটি কারণ রয়েছে—একটি হলো কম বয়সে চুল পড়ার শারীরিক সমস্যা, আর অন্যটি সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়া। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের রিল কিংবা ছবিতে সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের নিখুঁত হেয়ারলাইন দেখে নিজেদের চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে পড়ছেন তরুণরা।

সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণাতেও এই আশঙ্কাজনক তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি ভারতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া বা পুরুষদের সাধারণ চুল পড়ার সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যাটি হলো ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সিদের, যাদের গড় বয়স মাত্র চব্বিশ বছর। এর ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার কারুকার্যখচিত ছবিগুলো তরুণদের মনে নিখুঁত চেহারার অবাস্তব ধারণা তৈরি করছে।

তবে চুল প্রতিস্থাপন সার্জন ডঃ গৌরব গার্গ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ২৫ বছর বয়সের আগে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। কারণ এই বয়সে চুল পড়ার ধরন পুরোপুরি স্থিতিশীল হয় না। তাড়াহুড়ো করে বা শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে অস্ত্রোপচার করালে ভবিষ্যতে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাওয়ার আগে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় করা এবং চিকিৎসাবিহীন উপায়ে তা রোধ করার ওপরই বিশেষ জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *