সাড়ে চার লাখ টাকার ফোল্ডেবল আইফোন নাকি আস্ত একটা গাড়ি? দাম শুনলে মাথা ঘুরে যাবে!

প্রযুক্তির বাজারে ঝড় তুলে অ্যাপল লঞ্চ করেছে তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ডুয়ো। ফোনটি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এর তাক লাগানো ফিচার এবং আকাশচুম্বী দাম নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে এই সিরিজের ২ টেরাবাইট (২ টিবি) স্টোরেজ মডেলটির দাম রাখা হয়েছে ৪.৪৯ লক্ষ টাকা, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। একটি মোবাইল ফোনের পেছনে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটি স্মার্টফোনের দাম এত বেশি যে, সেই একই টাকায় ভারতে আস্ত একটি নতুন গাড়ি কিনে ফেলা সম্ভব। সাশ্রয়ী বাজেটে কোন কোন গাড়ি এই টাকায় পাওয়া যেতে পারে, তার একটি তুলনামূলক খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
মারুতি সুজুকি এস-প্রেসো
ভারতের বাজারে অন্যতম সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি হিসেবে পরিচিত মারুতি সুজুকি এস-প্রেসো। ছোট আকৃতির হলেও এর ডিজাইনটি বেশ অনেকটাই এসইউভি-এর আদলে তৈরি। শহরাঞ্চলের ব্যস্ত রাস্তায় সহজে ড্রাইভ করার জন্য এই গাড়িটি দারুণ উপযোগী। এতে রয়েছে ১.০ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিন এবং চমৎকার মাইলেজের জন্য অটোমেটিক ইঞ্জিন শাটডাউন ও রিস্টার্ট প্রযুক্তি। এই গাড়ির এক্স-শোরুম মূল্য ৩.৪৯ লাখ থেকে ৫.২৭ লাখ টাকার মধ্যে।
মারুতি সুজুকি অল্টো কে১০
এ দেশের মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কাছে অল্টো কে১০ দীর্ঘকাল ধরে একটি বিশ্বাসের নাম। এর কম দাম এবং সহজ রক্ষণাবেক্ষণই এর প্রধান ইউএসপি। ১.০ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের এই গাড়িটি ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক—উভয় গিয়ারবক্সেই পাওয়া যায়। এ ছাড়া যাঁরা অতিরিক্ত মাইলেজ চান, তাঁদের জন্য রয়েছে সিএনজি বিকল্পও। এর এক্স-শোরুম মূল্য শুরু হয় ৩.৬৯ লাখ টাকা থেকে এবং ৫.৪৪ লাখ টাকা পর্যন্ত যায়।
রেনো কুইড
বুকের মতো শক্তপোক্ত ও এসইউভি-এর মতো আকর্ষণীয় লুকের কারণে রেনো কুইড হ্যাচব্যাক বাজারে বেশ আলাদাভাবে নজর কাড়ে। ১.০ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের এই গাড়িতে ৮ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, এলইডির ডিআরএল, ডুয়াল এয়ারব্যাগ, এবিএস এবং হিল স্টার্ট অ্যাসিস্টের মতো জরুরি ফিচার রয়েছে। তবে এর প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম মূল্য ৪.৫৩ লাখ থেকে ৫.৬০ লাখ টাকার মধ্যে, যা আইফোনের দামের খুব কাছাকাছি।
টাটা টিয়াগো
এই বাজেট ক্যাটাগরিতে টাটা টিয়াগো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ডিলারশিপ ডিসকাউন্ট বা অফার মিলিয়ে এর বেস মডেলটি প্রায় ৪.৫ লক্ষ টাকার আশপাশে পেয়ে যাওয়া সম্ভব। পেট্রোল ও সিএনজি—উভয় জ্বালানির সঙ্গেই ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে এটি মেলে। এমনকি এর বৈদ্যুতিক সংস্করণ টাটা টিয়াগো ইভি-ও বাজারে রয়েছে, যার এক্স-শোরুম দাম ৪.৭০ লাখ থেকে ৮.৫৫ লাখ টাকার মধ্যে।
মারুতি সুজুকি সেলেরিও
অসাধারণ জ্বালানি দক্ষতা এবং শহরের ভিড়ে সহজে হ্যান্ডেল করার সুবিধার জন্য পরিচিত সেলেরিও। ১.০ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে এতে ম্যানুয়াল ও এএমটি অপশন দুটোই রয়েছে। বাজেট সচেতন গ্রাহকদের জন্য এর সিএনজি সংস্করণও বেশ জনপ্রিয়। এই গাড়ির এক্স-শোরুম মূল্য ৪.৬৯ লাখ থেকে ৬.৭৫ লাখ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
আইফোন ডুয়ো-র ২ টিবি মডেলটির ৪.৪৯ লক্ষ টাকার এই মূল্যে আপনি এস-প্রেসো বা অল্টো কে১০-এর মতো ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি সহজেই কিনে নিতে পারবেন। বাজেট সামান্য বাড়িয়ে রেনো কুইড, টাটা টিয়াগো বা সেলেরিওয়ের মতো বিকল্পগুলোও বেছে নেওয়া সম্ভব। ফলে একটিমাত্র স্মার্টফোনের পেছনে এত লাখ টাকা খরচ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, নাকি একই টাকায় চার চাকার একটি বাহন ঘরে তোলা লাভজনক হবে—সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।