১৩ বছরের খরা কাটিয়ে দলীপ ট্রফির মুকুট পূর্বাঞ্চলের মাথায়! ফাইনালে জোড়া ইনিংসে বাজিমাত করে ইতিহাস ঈশানদের।

২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ মরশুমের পর দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে দলীপ ট্রফি (Duleep Trophy) চ্যাম্পিয়ন হলো পূর্বাঞ্চল। কাকতালীয়ভাবে, চেন্নাইয়ের সেই একই পয়া মাঠে ট্রফি এল, যেখানে বারো বছর আগে শেষবার জিতেছিল পূর্বাঞ্চল। অনুষ্টুপ মজুমদার কিংবা অশোক ডিন্ডাদের সেই সোনালি দিনের পর এবার মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার, সুদীপ কুমার ঘরামি ও অধিনায়ক ঈশান কিষাণদের হাত ধরে ফের হারানো গৌরব ফিরে পেল পূর্বাঞ্চল।

ফাইনালে ঈশান ঝড়ে কুপোমাত দক্ষিণাঞ্চল

চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে পূর্বাঞ্চলের জয়ের নেপথ্যে সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করেছেন ঝাড়খণ্ডের তারকা ক্রিকেটার তথা অধিনায়ক ঈশান কিষাণ। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ২৭০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি করেন ঝকঝকে ৮০ রান। পূর্বাঞ্চলের বিশাল ৭০৮ রানের জবাবে দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংসে ৩৩৬ রান তুলতে সক্ষম হয়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে পূর্বাঞ্চল ৩৮৮/৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় এবং দুই দলের অধিনায়ক হাত মিলিয়ে নেন। প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদেই অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পূর্বাঞ্চল।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনন্দন

দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক্স (ষ) হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “ঈশান কিষাণের নেতৃত্বে দলীপ ট্রফি জেতার জন্য পূর্বাঞ্চলকে অনেক অভিনন্দন। এত বছর পর দলীপ চ্যাম্পিয়ন হলো পূর্বাঞ্চল। প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থেকে জিতল। গোটা টুর্নামেন্টে দারুণ খেলার জন্য বাংলার ছেলেদের অভিনন্দন। সঙ্গে অন্য ক্রিকেটারদেরও।”

অধিনায়ক ঈশান কিষাণ ম্যাচ শেষে বলেন, “দলের অধিনায়ক হলে সবার আগে আসে পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতনতা। প্রথম ইনিংসের লিড নেওয়ার পর এই গরমে কেন ফলো অন করাব? আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল ১০ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসের লিড নিশ্চিত করা।” ১৩ বছর পর পূর্বাঞ্চলের এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *