ছুটি পাওয়ার কী মারাত্মক ফন্দি! স্কুল বন্ধ করতে রুমমেটকে বালিশচাপ্পা দিয়ে খুনের চেষ্টা অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রের

অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপা জেলার গিয়ারামপল্লে গুরুকুল স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং হোস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সামান্য ছুটির লোভে অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্র তাদেরই এক রুমমেটকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ভয়াবহ ঘটনাটি কেবল স্কুলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় এক সপ্তাহ আগের এক গভীর রাতে, যখন হোস্টেলের সমস্ত পড়ুয়া গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই ছাত্র ঘুমন্ত রুমমেটের মুখের ওপর ভারী বালিশ চেপে ধরে এবং সর্বশক্তি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে মারার চেষ্টা করে। হঠাৎ এই মারাত্মক আক্রমণে হতচকিত হয়ে পড়লেও আক্রান্ত ছাত্রটি হাল ছাড়েনি। জীবন বাঁচাতে সে মরিয়া হয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই চালায় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। অল্পের জন্য এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যায় ওই কিশোর।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এই ভয়াবহ ঘটনার পরও স্কুলের শিক্ষক ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের কাছে যাওয়া বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরিবর্তে পুরো বিষয়টি এক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। তবে স্থানীয়ভাবে খবর চাউর হতেই বিষয়টি শেষ পর্যন্ত জেলা শিক্ষা বিভাগের নজরে আসে।

খবর পেয়ে বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা (এমইও) রেড্ডিবাশা বুধবার সরাসরি স্কুলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তিনি ভুক্তভোগী ছাত্র, অভিযুক্ত দুই কিশোর এবং তাদের অভিভাবকদের আলাদাভাবে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্তে যে তথ্য সামনে আসে, তা শুনে হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরাও। অভিযুক্তরা জেরায় স্বীকার করে যে, প্রায় দুই বছর আগে এই একই স্কুলে এক ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে বেশ কিছুদিন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই স্মৃতি থেকেই তাদের মাথায় অদ্ভুত এক ফন্দি আসে। তাদের ধারণা ছিল, কাউকেও খুন করলে স্কুল আবার দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা ছুটি পাবে।

এই নৃশংস ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আবাসিক স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য, যথাযথ কাউন্সেলিং এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং শিশুদের এমন বিকৃত মানসিকতা নিয়ে এখন শিক্ষা বিভাগ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *