সিকিমে ফের বড়সড় ভূমিধস, বন্ধ যোগাযোগ! চরম আতঙ্কে পর্যটকরা

পাহাড় যেন কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছে না। একের পর এক ভূমিধস এবং নদীর গতিপথ আটকে হড়পা বানের আশঙ্কায় ফের চরম উদ্বেগে সিকিম। উত্তর সিকিমে ভূমিধসের জেরে চ্যাকুং ও তিস্তা নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হওয়ার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম সিকিমের রিম্বি-ইউকসম প্রধান সড়কে নেমে এল ভয়াবহ ভূমিধস। পাহাড়ের বিশাল অংশ হুড়মুড়িয়ে রাস্তার উপর ভেঙে পড়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাঝেই শুরু হয়েছে লাগাতার ভারী বৃষ্টি, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউকসম-তাশিডিং নির্বাচনী এলাকার রিম্বি গ্রামে এই ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি, পাথর ও কাদার স্রোতে রিম্বির সঙ্গে ইউকসম ও খেচুপরির সংযোগকারী প্রধান রাস্তাটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তার একটি বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যাওয়ায় সেখানে যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই এলাকায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৃষ্টি আরও বাড়লে পাহাড়ের বাকি অংশও ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পাদদেশে থাকা কয়েকটি বাড়িও বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কেবল রাস্তা থেকে মাটি-পাথর সরিয়ে সাময়িক সমাধান করলে চলবে না, বরং বারবার ভূমিধস ঠেকাতে পাহাড়ের ঢাল স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা জরুরি।
রিম্বি-ইউকসম সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তা বন্ধ থাকায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাও মাঝপথে আটকে পড়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয়রা অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বিপজ্জনক ঢালগুলি পরীক্ষা করানোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, উত্তর সিকিমে চ্যাকুং চু-তে ভূমিধসের কারণে অবরুদ্ধ হওয়া তিস্তা নদীর গতিপথ সাময়িক উদ্ধার করা হলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ি এই জনপদে ঝুঁকি ও সতর্কতা দুই-ই বজায় রাখা হয়েছে।