দুর্নীতি ও আর্থিক সংকটের জেরে পদত্যাগ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আর্থিক দুর্নীতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য প্রদানের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি বিতর্ক ও চাপের মুখে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতনহীন ছুটিতে থাকার পর অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
কেন এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত?
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে তাঁকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দীর্ঘদিন বেতনহীন অবস্থায় থাকায় একদিকে যেমন তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন, তেমনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দায়বদ্ধতা ও কার্যপ্রণালীর ওপর আস্থা হারিয়ে নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। এরপরই হু (WHO) তাঁকে ছুটিতে পাঠায়। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে তাঁকে বরখাস্ত করার জল্পনাও শুরু হয়েছিল, তবে তার আগেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
কী লেখা রয়েছে পদত্যাগপত্রে?
হু প্রধানকে লেখা চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় বেতন না পাওয়ার ফলে তিনি চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি তাঁর আস্থা ভেঙে পড়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন তিনি। হাসিনার কন্যার দাবি, তিনি সর্বদা নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গেই সমস্ত দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন সায়মা। তবে সেই বছরের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকেই তাঁর পরিবার এবং তাঁর নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন মোড় নিল।