প্রথমে বাদ, ৩ ঘণ্টা পর হঠাৎ রিএন্ট্রি! বঙ্গ বিজেপির নতুন কমিটিতে কোন জাদুতে ফিরলেন দিলীপ-রাহুল?

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের আগে ২৭০ সদস্যের নতুন রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই রদবদলের কথা জানিয়েছেন। তবে এই কমিটি প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে, কারণ প্রথম দফায় প্রকাশিত তালিকায় নাম ছিল না দলের দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহার।বিকেল পাঁচটায় প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় তাঁদের নাম না থাকায় দলের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়। তবে তার ঠিক তিন ঘণ্টা পর, রাত নটার সময় একটি সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে জায়গা পান দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের রাজ্যে পা রাখার ঠিক আগেই এই রদবদলকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কারা?নতুন এই কমিটিতে বিরোধী দলের হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক নতুন মুখকে যুক্ত করা হয়েছে। সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে দলের প্রভাবশালী নেতাদের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:নেতার নামন্যস্ত দায়িত্ব / এলাকাশুভেন্দু অধিকারীতমলুক সাংগঠনিক জেলা (অন্তর্গত নন্দীগ্রাম)শিশির অধিকারীকাঁথি সাংগঠনিক এলাকাসুকান্ত মজুমদারদক্ষিণ দিনাজপুরশান্তনু ঠাকুরবনগাঁতাপস রায়উত্তর কলকাতাজগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়বীরভূমনিশীথ প্রামাণিককোচবিহারশঙ্কর ঘোষশিলিগুড়িআগামী ছয় অক্টোবর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র এবং মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ (রেজিনগর) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তমলুকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব তুলে দেওয়া অত্যন্ত কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল। নতুন এই কমিটিতে শিশির অধিকারী ও শান্তনু ঠাকুরের মতো প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রী, সাংসদ এবং জেলা সভাপতিদেরও সদস্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গেরুয়া শিবির আসন্ন লড়াইয়ের আগে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত যে আরও শক্ত করতে চাইছে, তা বলাই বাহুল্য।