সৌদি রক্ষায় সরাসরি যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান? মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় মোড়

সৌদি আরবের আকাশসীমায় হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার একযোগে সৌদি আরবের চারটি শহরে চালানো এই হামলায় ৭৩ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। এর ফলে ব্যাহত হয়েছে দেশটির তেল বাণিজ্য। প্রতিদিন চার লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দেশটির পাশে দাঁড়াতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদকে রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে ইসলামাবাদ। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবকে রক্ষা করা তাদের নৈতিক ও সামরিক দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কৌশলগত মক্কা চুক্তি। ন্যাটো জোটের আদলে গঠিত এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা বাজেট ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সামরিক মহড়াও এই চুক্তির অংশ। এটিকে অনেক বিশেষজ্ঞ ইসলামিক ন্যাটো হিসেবেও অভিহিত করছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাতে সৌদি আরবে আগে থেকেই প্রায় ৮,০০০ পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনে এই সংখ্যা ৮০ হাজারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোকে পারমাণবিক নিরাপত্তার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে চুক্তিতে। হুথিদের এই তীব্র আগ্রাসনের মুখে মক্কা চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।