‘ম্যাজিস্ট্রেটের এত বড় স্পর্ধা এল কোথা থেকে?’ জন্তর মন্তরের বিক্ষোভ মামলায় উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে নিয়ে বিস্ফোরক সুপ্রিম কোর্ট

দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের ওপর বেজায় চটিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। গ্রেটার নয়ডার এক ম্যাজিস্ট্রেটের অদ্ভুত ঔদ্ধত্য এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার ঘটনায় বুধবার অত্যন্ত কড়া সুর চড়াতে দেখা যায় সুপ্রিম কোর্টকে। আদালত সাফ জানিয়েছে, এই বিষয়ে সরাসরি গ্রেটার নয়ডার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হবে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরেও একজন ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এমন নোটিশ জারি করার সাহস পেলেন!

পুরো ঘটনাটি ঠিক কী?
গ্রেটার নয়ডা কমিশনারেটের তৃতীয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জিবিইউ) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশি অভিযোগ ছিল, ওই ছাত্র কিছুদিন আগে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভে অন্যান্য পড়ুয়াদের অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিল। আর সেই অপরাধেই তাঁকে সোজা ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড বা শান্তিচুক্তি জমা দেওয়ার নোটিশ ধরানো হয়।

আইনজীবীদের মতে, শান্তিচুক্তিপত্র কোনো শাস্তি বা দোষ স্বীকার না হলেও এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রশাসন কাউকে মুচলেকায় সই করতে বলতে পারে। তবে অভিযুক্ত ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠি এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খণ্ডন করে দাবি করেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসেই উপস্থিত ছিলেন না।

আইনজীবীর সওয়াল ও শীর্ষ আদালতের কড়া অবস্থান:
বুধবার মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টে এই ছাত্রকে নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের সামনে তিনি জানান যে, দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রদের ওপর একপ্রকার অপ্রয়োজনীয় ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ চালানো হচ্ছে।

আইনজীবী আদালতকে মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও নয়ডা পুলিশের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেটার নয়ডার ওই ম্যাজিস্ট্রেট ছাত্রটিকে নোটিশ জারি করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, তবে আইনজীবীর মতে এই ঘটনা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। নয়ডা তথা উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের এহেন আচরণ ছাত্রদের মধ্যে এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা:
আইনজীবীর সওয়াল শোনার পরই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, “আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমাদের যুবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলাম।”

প্রধান বিচারপতি আরও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি যে ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে একটি নোটিশ জারি করতে পারলেন, যখন আমরা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলাম যে কোনো ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।” এরপর আইনজীবীকে সমস্ত ঘটনা লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে বলে প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা এই বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে স্পষ্টীকরণ চাইব। তিনি আদালতে এসে নিজের মতামত ও জবাব পেশ করুন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *