ফ্রিজে স্ত্রীর মাথা, দেহ খাওয়ানোর পরিকল্পনা ছিল কুকুরের! আত্মসমর্পণ করে বিকৃত মানসিকতার জেরে যা বলল স্বামী, শুনলে শিউরে উঠবেন

আসামের গুয়াহাটিতে এক নৃশংস ও গা শিউরে ওঠার মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। স্ত্রীকে খুনের পর তাঁর মাথা কেটে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রামানুজ গোস্বামী রবিবার গভীর রাতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রামানুজের এই পশুবৃত্তিক ও ঠাণ্ডা মাথার কাণ্ড দেখে হতবাক তদন্তকারীরাও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ২৫ বছর বয়সী যুবতী রিয়া তালুকদারের সঙ্গে মাত্র কয়েক মাস আগেই রামানুজের বিয়ে হয়েছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে দম্পতির ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দেখতে পান গত দুই দিন ধরে ওই দম্পতিকে দেখা যাচ্ছে না এবং তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর প্রতিবেশীরাই পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে এবং শোবার ঘর থেকে যুবতীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, নিহতের আঙুলগুলি সামান্য কাটা ছিল এবং দেহটি পচতে শুরু করেছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, দেহের সঙ্গে মাথাটি ছিল না। এরপর অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রান্নাঘরের ফ্রিজের ভেতর থেকে একটি পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় রিয়ার ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহটি রিয়া তালুকদারের বলেই শনাক্ত করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী রামানুজ পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। পুলিশ তার খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করলে রবিবার রাতে সে নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের পর আদালতের বাইরে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে রামানুজ নির্লজ্জের মতো নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে। সে জানায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তার বিন্দুমাত্র কোনো অনুশোচনা নেই। শুধু তাই নয়, জেল থেকে ছাড়া পেলে সে এমন অপরাধ আবার করবে এবং আরেকজনকে খুন করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে বর্তমানে রামানুজকে দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় জানিয়েছে যে, স্ত্রীকে খুন করার পর তার মৃতদেহটি সে কোনো পথকুকুরকে খাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা এখনও পুরোপুরি যাচাই করা হয়নি। নৃশংস এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা পারিবারিক অশান্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *