চোখের সামনে জলে তলিয়ে গেল ৪ কোটির জলের ট্যাঙ্ক! উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির গ্রাসে সরকারি প্রকল্প

উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনের জেরে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিপাত এবং কিচ্ছা নদীর জলস্তর আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বরেলির শেরগড় ব্লকের বৈরামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে জল জীবন মিশনের অধীনে নির্মিত প্রায় ৩.৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি একটি বিশাল ওভারহেড জলের ট্যাঙ্ক নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
গত সপ্তাহ থেকেই কিচ্ছা নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ট্যাঙ্কটিকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত সীমানা প্রাচীরটি নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রশাসনের তরফ থেকে এক্সইএন আকাঙ্ক্ষা সিং, এ.ই. সঞ্জয় সিং এবং জে.ই. রাকেশের মতো আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোলার প্যানেল, জেনারেটরসহ কিছু মূল্যবান যন্ত্রাংশ ট্রাক্টরে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও ট্যাঙ্কটিকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামপ্রধান শামসুল খান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যখন এই জলের ট্যাঙ্কের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল, তখন কিচ্ছা নদী এখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ছিল। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে চলা লাগাতার ভূমি ক্ষয়ের জেরে নদীটি ধীরে ধীরে ট্যাঙ্কটির প্রায় ১০০ মিটার কাছাকাছি চলে আসে। গ্রামবাসীরা বহুবার প্রশাসনকে এই নদীভাঙনের বিষয়ে সতর্ক করে পিচিং বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালেও সঠিক সময়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জল জীবন মিশনের এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামে পাইপলাইন বসানো হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতে কলের সংযোগও পৌঁছে গিয়েছিল। স্থানীয় মানুষের আশা ছিল খুব শীঘ্রই তাঁরা ঘরে বসেই পানীয় জল পাবেন। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা ও নদীভাঙনের জেরে কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প চোখের সামনে জলের তলায় চলে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বর্তমানে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জেরে ওই এলাকার বাকি পরিকাঠামো নিয়েও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।