হাসিনার সম্পত্তি বিক্রি করে শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ? আইনি পথে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার!

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সেই সম্পদ বিক্রি করে জুলাই আন্দোলনের ভুক্তভোগী ও শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দণ্ডিত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, নিলাম এবং অর্থ বিতরণের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াটিকে একটি পরিষ্কার আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে বিধিমালায় সংশোধনের প্রস্তুতি চলছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলায় ট্রাইব্যুনাল এর মধ্যেই শেখ হাসিনা ও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নামে প্রায় ৪৩৪ মিলিয়ন টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। যার মধ্যে ব্যাংক আমানত, যানবাহন, সোনা ও জমি অন্তর্ভুক্ত। তবে এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি বা অন্যান্য পারিবারিক বাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার বিখ্যাত পৈতৃক বাড়ি তথা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভবনটি তাঁর ব্যক্তিগত নামে নিবন্ধিত নয়, বরং এটি ‘শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অধীনস্থ। একইভাবে, সুধা সদন তাঁর সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে এবং গাজীপুরের গার্ডেন হাউসটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। ফলে আদালতের নির্দিষ্ট আদেশ বা আলাদা আইনি ভিত্তি ছাড়া ট্রাস্ট বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে থাকা এই সম্পত্তিগুলো সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নয়। এর জন্য সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা খতিয়ে দেখতে হবে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ২০০৮ সালের হলফনামার ৬.৫০ একর জমির বাইরেও ২৮ একরের বেশি জমি এবং ৪,১০০টি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে এই সম্পত্তিগুলো অপরাধলব্ধ অর্থ বা গোপন উপায়ে অর্জিত, তবেই সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কেবল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাই নয়, বরং সেই অর্থ আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করার পথ প্রশস্ত করবে।