যোগ সাধনার পবিত্র শহরেই বিষাক্ত বাতাস! আধ্যাত্মিকতার তীর্থক্ষেত্র কেন পিছিয়ে পড়ল বায়ু মানের তালিকায়?

আধ্যাত্মিকতা, শান্তি এবং যোগ সাধনার কেন্দ্র হিসেবে ঋষিকেশ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। মা গঙ্গার কোল এবং সুউচ্চ পর্বতমালার ঘেরাটোপে গড়ে ওঠা এই শহর বরাবরই তার পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচিত। অথচ, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রকাশিত নির্মল বায়ুর সর্বশেষ সরকারি র্যাঙ্কিংয়ে ৩ লক্ষের কম জনসংখ্যাবিশিষ্ট ৪০টি শহরের মধ্যে ১৬তম স্থানে নেমে গেছে ঋষিকেশ। প্রশ্ন উঠছে, পাহাড়ের সতেজ বাতাসে ঘেরা যে শহরের শিরায়-উপশিরায় বিশুদ্ধতা থাকার কথা, সেই শহর বায়ু গুণগত মানের প্রতিযোগিতায় কেন পিছিয়ে পড়ল?
মূলত মাত্রাতিরিক্ত জনসমাগমই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী এবং রোমাঞ্চপ্রেমী পর্যটক ঋষিকেশ ভ্রমণ করেন। হাজার হাজার যানবাহনের ধোঁয়া আর ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের জেরে পাহাড়ি এই শান্ত উপত্যকার বাতাস ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছে। রাস্তাঘাট থেকে উড়ন্ত ধূলিকণাও বায়ুদূষণ বাড়াতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ওড়িশার কলিঙ্গ নগর (স্কোর ১৯৮.৫)। এছাড়া ওড়িশারই আরও দুই শহর— আঙ্গুল (১৯৬.৫) ও তালচের (১৯৩.৫) যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় ঋষিকেশ প্রশাসনের কড়াকড়ির কমতি নেই। গঙ্গা ও স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা করতে সেখানে প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য বাসনপত্রের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পাশাপাশি, ওই পবিত্র ভূমিতে মাংস ও মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও সমস্ত নিয়মের কড়াকড়িকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্মল বাতাসের তালিকায় কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে এই আধ্যাত্মিক নগরী।