‘পুজোয় আমিষ খাবেন না,’ বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় FIR দায়ের হতেই শোরগোল

দুর্গাপুজোয় বাঙালির খাদ্যাভাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বিপাকে পড়লেন মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। বাংলার মানুষের ভাবাবেগে আঘাত এবং খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতায় হস্তক্ষপের অভিযোগ এনে এবার তাঁর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করল কংগ্রেস। শুধু দক্ষিণ কলকাতাই নয়, রাজ্যের একাধিক থানায় এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।

সম্প্রতি লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাগেশ্বর বাবা দাবি করেছিলেন, দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপের পিছনে ‘নোংরা’ বা আমিষ খাবার খাওয়া হয়, যা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। পুজোর ৯ দিন সমস্ত বাঙালিকে নিরামিষ খাওয়ার নিদান দেওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে কে চান দুর্গাপুজোয় মদ-মাংসের দোকান ও আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধ হোক? এমনকি পুজোর দিনে যাঁরা আমিষ খাবার খান, তাঁদের ‘পখণ্ডী’ বা পাষণ্ড বলে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। আর এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ বাঙালিরা।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করার পর প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ভিনরাজ্য থেকে এসে যে ব্যক্তি সরাসরি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অপমান করে গেলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন কেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিল না। পাশাপাশি, ওই বিতর্কিত মন্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত থাকা বিজেপি নেতাদের কেন নীরব ছিলেন, তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছে হাত শিবির।

অন্যদিকে, এই বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করতেই রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কে কী খাবেন বা পরবেন তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। অষ্টমীতে লুচি এবং নবমীতে খাসির মাংস খাওয়া বাংলার সংস্কৃতির অঙ্গ এবং বাঙালি সেটাই খাবে। অন্যদিকে, প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষও জানান যে বাংলার সংস্কৃতিতে পাঁঠাবলি ও মাংস প্রসাদ হিসেবে গ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, যদিও পুজোর দিনগুলিতে সাত্ত্বিক পরিবেশ বজায় রাখার কথা অনেকেই বলে থাকেন। সবমিলিয়ে বাগেশ্বর বাবার এই ফতোয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ উত্তপ্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *