হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই সব শেষ! ভাঙা রাস্তায় দু’ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স আটকে থাকায় মর্মান্তিক পরিণতি জন্ম না নেওয়া শিশুর

প্রসবযন্ত্রণা ওঠার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ডেকেছিল পরিবার। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রায় দু’ঘণ্টা ভাঙা রাস্তায় আটকে রইল সেই জীবনদায়ী গাড়ি। শেষ পর্যন্ত ট্র্যাক্টর দিয়ে টেনে সেটিকে রাস্তা থেকে বার করা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অভিযোগ, পথেই গর্ভস্থ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল আগ্রায়?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের আগ্রার এক প্রসূতির প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে রওনা হন। কিন্তু গ্রামের অত্যন্ত খারাপ ও বেহাল রাস্তার একটি বড় গর্তে আটকে পড়ে অ্যাম্বুল্যান্সটি। রাস্তার অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে চালক শত চেষ্টা করেও গাড়িটি বার করতে পারেননি। দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে মাঝরাস্তায় আটকে থাকে অ্যাম্বুল্যান্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ট্র্যাক্টরের সাহায্যে দড়ি দিয়ে টেনে গাড়িটিকে গর্ত থেকে বার করেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুল্যান্সটি রাস্তায় আটকে থাকায় সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। যখন মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ততক্ষণে গর্ভস্থ শিশুটির আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বেহাল রাস্তার মধ্যে ট্র্যাক্টর দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স টেনে তোলার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য প্রদীপ কুমার গত ৫ সেপ্টেম্বর তহসিল দিবসে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের নির্দেশ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের অন্দরে নড়েচড়ে বসা শুরু হয়েছে। মহকুমাশাসক বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তা পূর্ত দফতরে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
এদিকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কড়া মন্তব্য, সরকারি ব্যবস্থার চরম উদাসীনতার কারণেই যে শিশুরা এখনও পৃথিবীর আলো দেখেনি, তাদেরও এমন নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বেহাল রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের প্রকৃত দায়িত্ব কার, তা নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।