পচা মাংসের পর এবার কলকাতা জুড়ে দেদার বিকোচ্ছ জাল পনির! চোখ কপালে তুলবে এই খবর

উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই খাদ্য সুরক্ষা এবং জনসচেতনতায় কড়া পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় এখন চলছে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান। কোথাও ধরা পড়ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, আবার কোথাও বা পচা মাছ-মাংস ও ফাঙ্গাসযুক্ত সবজি। তবে এবার যা ধরা পড়ল, তাতে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ সকলের। নিরামিষ খাবারের বাজারেও হানা দিয়েছে ভেজাল পনিরের কারবার।
বউবাজারের পনির পট্টিতে পুরসভার হানা
ডেকার্স লেন, পার্ক স্ট্রিট এবং বিভিন্ন শপিং মলে অভিযানের পর এবার কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নজর পড়েছে নিরামিষ খাবারের দোকান এবং পনিরের বাজারের ওপর। সোমবার বউজাবারের বিখ্যাত পনির পট্টিতে অভিযান চালান পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলাকালীন এলাকার বিভিন্ন দোকানে পনিরের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। আয়োডিনের সাহায্যে পনিরের ঘনত্ব ও মান যাচাই করেন আধিকারিকরা।
অধিকাংশ দোকানের পনিরের মান সন্তোষজনক বলা হলেও, কয়েকটি দোকানে দীর্ঘদিনের পুরনো খোয়া ক্ষীর ও ছানার কেক মজুত থাকার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযানের সময় সেই সমস্ত বাসি খাবার পরীক্ষা করে ঘটনাস্থলেই তা নষ্ট করে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে বাসি খাবার মজুত রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, একটি দোকানে প্রয়োজনীয় ফুড লাইসেন্স না থাকায় দোকানদারকে শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে।
গড়িয়াহাটেও উদ্ধার পচা মাংস
শুধু পনির বা নিরামিষ খাবারেই নয়, দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত গড়িয়াহাট বাজারেও ফুড সেফটি কমিশনের একটি দল আচমকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রায় ৬ কিলো পচা চিকেন এবং ৮ কিলো পচা মাটন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছে প্যাক করে তা বিক্রির তোড়জোড় চলছিল। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের তৎপরতায় সেই পচা ও বাসি মাংস সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়। উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের নজরদারি আরও কড়া করা হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।