দুর্গাপুজোয় আমিষ খেলে মানুষ ভণ্ড? বাগেশ্বর বাবার ফতোয়ায় মুখ খুললেন পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক!

দুর্গাপুজো হলো বাঙালি হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। যুগ যুগ ধরে যে নিয়ম ও আচার-অনুষ্ঠান মেনে এই পুজো হয়ে আসছে, সেই পুজো নিয়ে এবার নতুন পাঠ পড়াচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের ‘বাগেশ্বর বাবা’ ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসে তিনি মন্তব্য করেন, দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা খাবার তৈরি করা হয় এবং পুজোর সময় যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা নাকি ‘ভণ্ড’। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যে বাঙালি যুগ যুগ ধরে নিজের নিয়মে দুর্গাপুজোয় মেতে ওঠে, উৎসবের দিনগুলিতে নিজের পছন্দমতো খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ করে, তাকে খাবার নিয়ে পাঠ দেওয়ার মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী আসলে কে? প্রসঙ্গত, তাঁর এই কর্মসূচিতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং রাজ্য অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’-এ তাঁর সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের নিরামিষ খাবার খেতেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ভিন রাজ্যের এক সন্তের এই ফতোয়া সহজে মেনে নিতে পারছেন না বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এখনও অনেক বাড়ির পুজোয় কিংবা বারোয়ারি পুজোয় মায়ের ভোগে মাছ দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক কারণে রোজ সম্ভব না হলেও পুজোর কোনো একদিন অন্তত মাছভোগ দেওয়া হয় মায়ের জন্য। কারণ বাঙালি ভীষণভাবে বিশ্বাস করে যে মা নিজের চার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়িতে এসেছেন। আর বাপের বাড়িতে মায়ের এই আগমন সেলিব্রেট করার ক্ষেত্রে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয়টি অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। প্রাচীন এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নিশানা করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিভিন্ন মহল।